বিড়ির ওপরে কর কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, অর্থমন্ত্রীকে বলব–জমির আইলে বসে গরিব কৃষকেরা বিড়ি খায়, এটার দিকে নজর দেওয়া দরকার। কারণ যারা বিড়ি খায় ও তামাক চাষ করে, সেই অর্থনীতিই আপনারা পাচ্ছেন, সুযোগ পাচ্ছেন।

আজ শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

এর আগে নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে ঢাকা–৩ আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘একটা রিকশাওয়ালা বলতেছিল—স্যার আমরা অনেকক্ষণ পরিশ্রম করে মাঝে মাঝে একটা বিড়ি টানি। এই বিড়ির ওপর ট্যাক্সটা কম রাখলে কি ক্ষতি হয়ে যেত?’

বিড়ির দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে ইঙ্গিত করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘বাজেটে অনেক জিনিসের দাম কমানো হয়েছে। অনেক জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এই একটা জিনিসের দাম আমার কাছে কেমন জানি মনে হয়।’

পটুয়াখালী-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাজেটের প্রশংসা করে পটুয়াখালীর উন্নয়নে একগুচ্ছ দাবি জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে ‘হাই ভোল্টেজ ভিজিট’ বলে উল্লেখ করেন এবং অর্থমন্ত্রীকে ‘ব্রিলিয়ান্ট ফাইন্যান্স মিনিস্টার’ আখ্যা দেন।

আলতাফ হোসেন বলেন, ‘বিধ্বস্ত অর্থনীতির’ ওপর দাঁড়িয়ে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছে। নিজ এলাকার দাবির মধ্যে তিনি পটুয়াখালী পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, পটুয়াখালী ইপিজেড কার্যকর করা, ২৫০ শয্যার হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা, পটুয়াখালী বা কলাপাড়ায় হালকা উড়োজাহাজ বা হেলিকপ্টারের জন্য রানওয়ে করার প্রস্তাব দেন।

এ ছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, মহিলা ক্যাডেট কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ, পুলিশ ফাঁড়ি, গৃহহীনদের আবাসন, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বীর নিবাস, ডে কেয়ার সেন্টার, যুব উন্নয়ন প্রকল্প, প্রবীণ নিবাস, বেকার সমস্যা ও নদীভাঙন সমাধানের দাবিও জানান তিনি।