প্রবেশের সঙ্গে প্রস্থানের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সূচনা ও সমাপ্তি প্রকৃতির এক অদ্ভুত খেয়াল। দুই বন্ধুর সাক্ষাৎ, আলিঙ্গন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ-সবই ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো কোনো ধ্রুপদি চিত্রকর্ম। তবু এক বন্ধুর বিষণ্ন বিদায় ৯০ মিনিটের ক্যানভাসে কেন যেন রহস্যের ধূসর রং ছড়িয়ে দেয়। আকাশ সুন্দর রহস্য পছন্দ করে। ফুটবলও কি তাই। তা না হলে, কেন এক বন্ধুর কাছে হেরে আরেক বন্ধু বিদায় নেবেন। কেন একজনের উল্লাস আরেকজনের বেদনার কারণ হবে।
টরন্টোয় যখন সন্ধ্যা ৬টা, ঢাকায় তখন ভোর ৪টা। টরন্টোয় বৃহস্পতিবারের রাত আক্ষরিক অর্থেই লুকা মদরিচের জন্য ‘বিমূর্ত এই রাত্রি আমার মৌনতার সুতোয় বোনা...’ হয়ে এলো।
ওহ! ম্যাচের ফল! সে তো সবাই জানেন। পর্তুগাল ২। ক্রোয়েশিয়া ১। এও জানেন, বন্ধুর কাছে হেরে বন্ধু বিদায় নিয়েছেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এই ম্যাচটিকে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ‘সন্ধ্যা’ হতে দেননি। আরেকটু এগোলেন। বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ জিতে ৪১-এর ‘তরুণ’ শেষ ষোলোতে। রোনাল্ডো, মানে পর্তুগাল। আর থামলেন মদরিচ। মানে, ক্রোয়েশিয়া। ফুটবলবিশ্বের দুই আইকনের শেষ সাক্ষাৎ এই ম্যাচের ফল, ভিএআর বিতর্ক-সব ছাপিয়ে ‘৯০ মিনিটের সিনেমার’ কেন্দ্রীয় চরিত্র। এই ম্যাচ ছিল ৪১ ও ৪০ এর এক আবেগপ্রবণ দ্বৈরথ। রিয়াল মাদ্রিদে দুজন একসঙ্গে কাটিয়েছেন ছয় মৌসুম (২০১২ থেকে ২০১৮)। ২২২ বার একসঙ্গে মাঠে নেমেছেন। চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। রিয়ালকে সাফল্যের সরোবরে ভিজিয়েছেন। সেই সবুজাভ স্মৃতি যখন ফিরে এলো টরন্টোয়-দুই বন্ধুর ভালোবাসা, আলিঙ্গন ও শ্রদ্ধাবোধ অটুট রইল। প্রতিদ্বন্দ্বিতা সেখানে ‘বহিরাগত’।
মদরিচ যখন ‘প্রস্থান’ লেখা দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন, রোনাল্ডো তখন এক রহস্য-চরিত্র। ‘আমি রাগের মাথায় কোনো সিদ্ধান্ত নিই না’-তার এই উচ্চারণে স্পষ্ট, সময় এখনো আসেনি তার অবসর নেওয়ার। তবে রোনাল্ডোর বোন ক্যাটিয়া আভেইরো ম্যাচ শুরুর আগে বোমা ফাটান এই বলে যে, ‘এই বিশ্বকাপ হতে পারে আমার ভাইয়ের শেষ নৃত্য।’ কিন্তু পর্তুগালের নাটকীয় জয়ের পর সিআর সেভেন বোনের কথা উড়িয়ে দিলেন।
ক্রোয়েশিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মদরিচের শৈশব কেটেছে শরণার্থী শিবিরে। ফুটবলে সেখানেই তার হাতেখড়ি। আর রোনাল্ডো পর্তুগালের মাদেইরার রাস্তায় হাতে বানানো কাগজের বল দিয়ে ফুটবলের প্রথম স্বাদ নেন। সেখান থেকে দুজন উঠে আসেন শৃঙ্গে।








