কক্সবাজারের মহেশখালীতে বঙ্গোপসাগরে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট- এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটি সমাধানে বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

বুধবার (২২ জুলাই) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা বাড়াতে সরকারের আরও পাাঁচ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে বিবৃতিতে। এর মধ্যে রয়েছে- চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বানের কার্যক্রম; মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া; ভোলার গ্যাস স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের মূল ভূখণ্ডে আনার জন্য পাইপলাইনসহ বিভিন্ন পরিবহনব্যবস্থা পর্যালোচনা; দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খনন, পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভার এবং উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রম এবং জ্বালানি আমদানির উৎস ও সরবরাহ অবকাঠামো বহুমুখীকরণ।

আরও পড়ুন

এফএসআরইউতে কারিগরি ত্রুটি / গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি, অনেক স্টেশন বন্ধ

গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সমস্যা দেখা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট এফএসআরইউ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। সরবরাহ কমার প্রভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ অন্যান্য গ্রাহকের ওপর পড়েছে। কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনগুলো প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস নিতে পারছে না। এর ফলে কয়েক স্থানে সিএনজি সংগ্রহে দীর্ঘ সারি ও সাময়িক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা দ্রুত নিরসন করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত সরবরাহের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জরুরি ও অগ্রাধিকার খাতগুলোতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা হলেও দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া আমদানিনির্ভরতা এ পরিস্থিতির প্রভাবকে আরও তীব্র করেছে। বিগত সময়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেওয়ায় আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটিতে সমস্যা দেখা দিলে জাতীয় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা চাপের মধ্যে পড়ে।

আরও পড়ুন

সংকট তৈরির চেষ্টা থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে গুজব: জ্বালানি বিভাগ

সরকার আমদানিনির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, পর্যায়ক্রমে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি কূপ খননের এক প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের লক্ষ্যে অনশোর ও অফশোর মডেল পিএসসির আওতায় গ্যাস উৎপাদনের জন্য দরপত্র আহ্বানের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। তবে জ্বালানি অনুসন্ধান, কূপ খনন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তাই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকটের স্থায়ী সমাধান রাতারাতি সম্ভব না হলেও সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

সাময়িক অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও সর্বসাধারনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা সমাধানের সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমডিআইএইচ/কেএসআর