মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি কমাতে ছাপানো টাকা বাজারে ছাড়ার প্রবণতা কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে যাতে বাজারে ছাপানো টাকা কম আসে সেদিকে সতর্ক থাকবে সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পল্লী অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থের জোগান দিয়ে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছিল। এর ২০ দিন পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো। এখন বলা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে নয়, ওই তহবিল গঠন করা হবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্যের অর্থ নিয়ে। তবে তহবিলের ব্যবস্থাপনায় থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদের হারে কোনো পরিবর্তন হবে না। আগের মতোই ৮ শতাংশ সরল সুদে মাঠপর্যায়ের কৃষকরা ঋণ পাবেন।

এ বিষয়ে রোববার রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে। সূত্র জানায়, শিল্প, কৃষি, রপ্তানি খাতে উৎপাদন বাড়াতে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থের জোগান দিয়ে ইতোমধ্যে বেশকিছু তহবিল গঠন করেছে। এসব তহবিল থেকে অর্থ বাজারে এলে একদিকে ছাপানো টাকার প্রবাহ বাড়বে, অন্যদিকে ছাপানো টাকার কারণে মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতির হারকে বাড়িয়ে দিতে পারে। এমন আশঙ্কায় বাজারে ছাপানো টাকা ছাড়ার প্রবাহ কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই অংশ হিসাবে রোববার এক সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ৮ জুন ১০ হাজার কোটি টাকার যে একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছিল তা এখন আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব অর্থে হবে না। এটি হবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্যে।