দেশের টেক্সটাইল শিল্পের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার পুনরায় ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের পুনর্গঠনের সময়সীমা বাড়ানো, ঋণ শ্রেণিকরণের বিধান শিথিল, ও রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের আকার বড় করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সহায়তা প্রয়োজন খাতটির।
বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এক বৈঠকে শিল্পখাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন বিটিএমএর সাবেক সভাপতি এ মতিন চৌধুরী, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম সরকার, সাবেক সহ-সভাপতি সালেহউদ্দিন জামান খান, পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ শোয়েব, সাবেক পরিচালক মোশাররফ হোসেন ও সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব হায়দার।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-গভর্নর সারওয়ার হোসেন, পরিচালক হারুন অর রশিদ এবং লিয়াকত আলী।
আরও পড়ুন
কেন ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না রপ্তানি খাত?
বিটিএমএ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একগুচ্ছ দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি তুলে দেয়। এতে লিখিতভাবে টেক্সটাইল শিল্পের স্বার্থে রক্ষায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিগত সহায়তার আহ্বান জানান রাসেল।
এতে বলা হয়, সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রণোদনা তহবিলের আওতায় আনা, ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র (এলসি) সংক্রান্ত বকেয়া দায় দ্রুত নিষ্পত্তি, গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ডের (জিটিএফ) সুবিধা সম্প্রসারণ, টেক্সটাইল খাতের জন্য যৌক্তিক সুদের হার নির্ধারণ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইজেড) স্থাপিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রণোদনা দেওয়া এবং সংকটাপন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর এক্সিট পলিসি বাস্তবায়ন করা।
বিটিএমএ নেতারা বলেন, এসব নীতিগত সহায়তা বাস্তবায়িত হলে টেক্সটাইল শিল্পের তারল্য সংকট কমবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রধান রপ্তানিমুখী এ শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও আরও শক্তিশালী হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো মোস্তাকুর রহমানের কাছে লিখিত আবদনে রপ্তানিমুখী স্পিনিং, টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যাংকঋণের কার্যকর সুদের হার পুনরায় ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নীতিগত ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা ও আর্থিক পুনর্গঠনের আবেদন জমার সময়সীমা ৩০ জুনের পরিবর্তে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।
আরও পড়ুন
যে সব কারণে রপ্তানি আয়ে ধারাবাহিক পতন
এছাড়াও, মেয়াদি ঋণ শ্রেণিকরণের ক্ষেত্রে বর্তমান তিনটি কিস্তির পরিবর্তে আগের মতো ছয়টি কিস্তি বকেয়া হওয়ার পর ঋণ শ্রেণিকরণের বিধান পুনর্বহালের দাবি জানায় বিটিএমএ।
পাশাপাশি সংগঠনটি এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের ঋণসীমা বর্তমান ২০ মিলিয়ন ডলারের পরিবর্তে গত ১২ মাসের প্রত্যাবাসিত রপ্তানি আয়ের ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ, সুদের হার পুনরায় ২ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং তহবিলের আকার বাড়ানোর দাবি জানায়।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চলমান জটিলতায় এলসি, বিল নিষ্পত্তি, আমদানি-রপ্তানি ও স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর নীতিগত হস্তক্ষেপ ছেয়েছে বিটিএমএ।
বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত সদস্য মিলগুলোর পণ্য সরবরাহ বা বিক্রির বিপরীতেও নগদ সহায়তা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করে বিটিএমএ।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিটিএমএ উত্থাপিত বিষয়গুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
আইএইচও/এএসএ








