আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে অবস্থিত ১০ দ্বীপের দেশ কেপ ভার্দে। অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমুদ্র সৈকতের জন্য এই দেশ পর্যটকদের কাছে দারুণ আকর্ষণীয়। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর অনেক মানুষ পর্যটন ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশে যান। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কেপ ভার্দে যাওয়ার সঠিক উপায় অনেকেরই অজানা। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঢাকা থেকে কেপ ভার্দে যাওয়ার উপায় ও ভিসার নিয়ম।
বাংলাদেশ থেকে কে ভার্দে যাওয়ার রুট
বাংলাদেশ থেকে কেপ ভার্দে যাওয়ার সরাসরি কোনো ফ্লাইট নেই। ঢাকা থেকে আপনাকে দুই বা ততোধিক ট্রানজিট নিয়ে যেতে হবে। সাধারণত ঢাকা থেকে ইস্তাম্বুল বা দুবাই হয়ে প্রথমে ইউরোপের কোনো দেশে যেতে হয়। এরপর সেখান থেকে কেপ ভার্দের রাজধানী প্রেয়া বা সাল দ্বীপে যাওয়ার প্লেন পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন
মেসি কি এবার রাজনীতিতে নামবেন?
লিসবন, মরক্কো বা ইস্তাম্বুল হয়ে কেপ ভার্দে যাওয়া সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় রুট। বাংলাদেশ থেকে পুরো ভ্রমণে সাধারণত ২১ থেকে ২৪ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।
ভিসা প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নিয়ম
বাংলাদেশি নাগরিকর কিছুদিন আগেও কেপ ভার্দে ভ্রমণে অন-অ্যারাইভাল ভিসা পেতেন। কিন্তু ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই সুবিধা বাতিল করেছে ফুটবল বিশ্বকাপে চমক দেখানো দেশটি।
কেপ ভার্দে ভ্রমণের নতুন নিয়মগুলোর পয়েন্ট নিচে দেওয়া হলো:
- অগ্রিম ভিসা বাধ্যতামূলক: বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা সম্পূর্ণ স্থগিত করা হয়েছে এবং এখন ভ্রমণের আগেই দূতাবাস থেকে অগ্রিম ভিসা নেওয়া বাধ্যতামূলক।
- অনলাইন প্রি-রেজিস্ট্রেশন: দেশটিতে যাওয়ার অন্তত ৫ দিন আগে সরকারের অফিশিয়াল ইএএসই (EASE) পোর্টালে অনলাইন নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
- এয়ারপোর্ট ট্যাক্স পরিশোধ: প্রি-রেজিস্ট্রেশনের সময় অনলাইনে ৩ হাজার ৪০০ কেপ ভার্দিয়ান এসকুডো (আনুমানিক ৩০ ইউরো) এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ট্যাক্স (TSA) দিতে হবে।
- বোর্ডিং কড়াকড়ি: অগ্রিম ভিসা এবং ইএএসই (EASE) নিবন্ধন ছাড়া কোনো যাত্রীকে কেপ ভার্দেগামী প্লেনে চড়তে (বোর্ডিং) দেওয়া হচ্ছে না।
ফুটবলে ‘সবচেয়ে দুর্বল’ দেশ: সান ম্যারিনো সম্পর্কে মজার কিছু তথ্য
ইমিগ্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র
কেপ ভার্দে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা বেশ কিছু নথি যাচাই করেন। আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকতে হবে। একই সঙ্গে, নিশ্চিত করা রিটার্ন বা অনওয়ার্ড প্লেনের টিকিট দেখাতে হবে।
ভ্রমণের সময় থাকার জন্য হোটেল বুকিংয়ের প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখা জরুরি। এছাড়া ভ্রমণের খরচ বহনের জন্য পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড বা ক্যাশ ডলার দেখাতে হবে।
বর্তমান সময়ে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার হওয়ায় এয়ারলাইনগুলো বোর্ডিংয়ের আগেই সব নথিপত্র কড়াকড়িভাবে পরীক্ষা করছে। তাই ভ্রমণের পূর্বে সব কাগজ সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।
সূত্র: ইএএসই, পাসপোর্ট ইনডেক্স, ভিসা নিউজ
কেএএ/








