প্রথম দুই ম্যাচ হেরে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এবার জিম্বাবুয়ের কাছে হোয়াইটওয়াশের লড়া এড়ানোর মিশন বাংলাদেমের সামনে। সে লক্ষ্যে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাট করতে পাঠায় বাংলাদেশ। ব্যাট করেতে নেমে ওয়েসলি মাধভিরে ও ব্র্যাড ইভান্স দুটি অনবধ্য হাফ সেঞ্চুরি করলেও ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানে অলআউট হয়ে গেছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
মূলত শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের সাঁড়াসি বোলিংয়ের সামনেই মূলত জিম্বাবুয়ে কম রানে অলআউট হয়েছে। শরিফুল নেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট। ২ উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ।
বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত ২০০ রানও করতে পারল না জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের শেষদিকে ব্র্যাড ইভান্সের প্রতিরোধে দুইশ ছোঁয়ার আশা জেগেছিল স্বাগতিকদের। তবে নিয়মিত উইকেট হারানোর কারণে শেষ পর্যন্ত ৪৮.১ ওভারে অলআউট হতে হয়।
এর আগে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন ওয়েসলি মাধেভেরে। আর শেষদিকে ৪৩ বলে ৫০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন ব্র্যাড ইভান্স। এই দুই ব্যাটারের বাইরে আর কেউ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি।
৪০ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ১৫০ রান। সেখান থেকে শেষ ৮ উইকেটে তারা যোগ করতে পারে মাত্র ৪৯ রান। বাংলাদেশের পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুতই ভেঙে পড়ে জিম্বাবুয়ের লেজ।
৪০তম ওভারে তানভীর ইসলামের বলে ৭৫ রান করা মাধেভেরে মিডঅফে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দিলে বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। ৭৪ বলের ইনিংসে তিনি মারেন ৫টি চার ও ১টি ছক্কা।
এরপর ব্র্যাড ইভান্স পাল্টা আক্রমণে নামেন। মেহেদী হাসান মিরাজকে একটি ছক্কা ও একটি চার, তাসকিন আহমেদকে একটি ছক্কা ও একটি চার এবং সাইফউদ্দিনকে একাধিক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ৪৬তম ওভারে তাসকিনের বলে এক রান নিয়ে ৪১ বলে তুলে নেন নিজের অর্ধশতক।
তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ৪৭তম ওভারে শরিফুল ইসলামের শর্ট বলে হুক করতে গিয়ে টপ এজ তুলে দেন। ফাইন লেগে তানভীর ইসলাম দৌড়ে গিয়ে ক্যাচ নিলে ৪৩ বলে ৫০ রানে থামে তার ইনিংস। ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস জিম্বাবুয়েকে দুইশর কাছাকাছি নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট হয়নি।
ইভান্স আউট হওয়ার পর শেষ ব্যাটার তানাকা চিভাঙ্গাকে নিয়ে লড়াই চালানোর চেষ্টা করেন আর্নেস্ট মাসুকু। কিন্তু ৪৮.১ ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের শর্ট বলে লেগসাইডে খেলতে গিয়ে টাইমিং করতে পারেননি মাসুকু। মিডঅফে সহজ ক্যাচ নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১০ বলে ২ রান করে বিদায় নেন মাসুকু, আর তাতেই ১৯৯ রানে শেষ হয় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন শরিফুল ইসলাম। ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে নেন ৪টি উইকেট। তাসকিন আহমেদ ১০ ওভারে মাত্র ৩২ রান খরচায় শিকার করেন ২টি উইকেট। তানভীর ইসলামও ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট। সাইফউদ্দিন শেষ উইকেটটি তুলে নেন, আর মেহেদী হাসান মিরাজ উইকেটশূন্য থাকলেও ৭ ওভারে ৪২ রান দিয়ে মধ্য ওভারে চাপ ধরে রাখেন।
আইএইচএস/








