বাংলাদেশে আগামী একশ বছরেও কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তার ভাষ্য, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান ঘিরে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, পরবর্তী বাস্তবতায় তা ভেঙে যাওয়ায় ভবিষ্যতে জনগণ এ ধরনের আন্দোলনে যাওয়ার আগে বহুবার ভাববে।
শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মানুষের সামনে একটি স্বপ্ন ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরিবর্তে এটি কিছু মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিণত হয়েছে বলে মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। তার দাবি, এ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে কোনো গণঅভ্যুত্থানের আহ্বান এলে সাধারণ মানুষ অনেক বেশি সতর্ক অবস্থান নেবে।
আলোচনায় তিনি গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষ্য, আন্দোলনের সময় হিজাব পরা ও হিজাববিহীন—সব শ্রেণির নারী একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই সহনশীল পরিবেশ বজায় থাকেনি। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ম্যুরাল ও ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে উগ্রবাদের উত্থান ঘটেছে। তার মতে, আন্দোলনের আগে মানুষ যদি এমন পরিস্থিতির কথা জানত, তাহলে অনেকেই হয়তো রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতেন।
বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রসঙ্গ টানেন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের পরও সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সুফল পুরোপুরি পায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। রুমিন ফারহানার ভাষায়, দেশের মানুষ বারবার ত্যাগ স্বীকার করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বারবারই প্রতারিত হয়েছে।
জেএসডি আয়োজিত এ আলোচনা সভায় দলটির কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।








