১০ জুলাই রাত ১টা ৩৫ মিনিট। জার্মান প্রবাসী সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার উদয় রহমানের ফেসবুক আইডিতে একটি গল্প পোস্ট করা হলো। একই দিনে রাত ৩টা ৫৪ মিনিটে গল্পটি পোস্ট করা হলো ‘পেন্সিল’ গ্রুপে। আমি গ্রুপেই প্রথম পড়েছি গল্পটি। দিনের আলো ফুটতেই সেটি ছড়িয়ে পড়লো সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিভিন্নজন শেয়ার করছিলেন।
তার পরের ইতিহাস সবার জানা। গল্পটি মুহূর্তেই ভাইরাল হলো। ‘সুর’ শিরোনামে প্রকাশিত গল্পটি ঘুরতে থাকলো অনেকের আইডিতে। সেই সুবাদে ১৪ হাজার ফলোয়ারের আইডিটি ছাড়িয়ে গেল ৩০ হাজারে। এর আগেও তিনি পেন্সিল গ্রুপে গল্প পোস্ট করেছিলেন। উদয় রহমানের প্রথম গল্প পড়ি পেন্সিল গ্রুপে।
আমার স্ত্রী ৬ জুলাই আমাকে একটি গল্পের লিংক দিলেন। আমি ক্লিক করতেই একটি গ্রুপের নাম সামনে এলো। আমি মেম্বার হতে জয়েন করলাম। আমাকে যুক্ত করা হলে গল্পটি পড়তে পারলাম। গল্পটি ছিল উদয় রহমানের লেখা। মানুষের দ্বৈতসত্তা নিয়ে চমৎকার একটি গল্প লিখেছেন তিনি। তাই আইডিয়া এবং চিন্তা আমার পছন্দ হলো।
আরও পড়ুন
মেয়েদের রেজাল্টের দিন কী হয়েছিল, জানালেন গুলতেকিন
তারপর আর পড়া হয়নি। ‘সুর’ গল্পটি ভাইরাল হলে মনে পড়লো, এই লেখকের একটি গল্প আগেই পড়েছি। আবার পেন্সিল গ্রুপে গেলাম। দেখা গেল, এই গ্রুপে তার পাঁচটি গল্প পোস্ট করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ১০ মে প্রথম গল্প পোস্ট করেন। সেটি সাড়া ফেলেনি। এরপর ২০১৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পোস্ট করেন আরেকটি। সেটাও বেশি নজর কাড়েনি কারো। তবে চলতি বছরের জুলাই মাসেই তিনি তিনটি গল্প পোস্ট করেন। ৪, ৬ ও ১০ জুলাই। আগের দুটি গল্পও ভালো সাড়া ফেলেছে। ১০ জুলাইয়ের ৩ হাজার ৬৬৩ শব্দের ‘সুর’ গল্পটি সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে।
মন চাইলো তার আইডি ঘুরে দেখতে। ফলে উদয় রহমানের আইডি ঘুরে দেখা গেছে, তার কয়েকটি গল্প পাঠকমহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়া ‘সুর’ গল্পটি নিয়ে তোলপাড় নেটদুনিয়া। কেউ প্রশংসা করছেন, কেউ করছেন সমালোচনা। কেউ বিশ্লেষণ করছেন দারুণভাবে। কেউ আবার কিছুটা তাচ্ছিল্যও করছেন। আমার মনে হলো, এখানেই লেখকের সার্থকতা। তিনি তো গল্পের মধ্য দিয়েই পাঠকের অন্তরে প্রবেশ করেছেন।
গল্পকার মোসাব্বির আহে আলী গল্পটি টাইমলাইনে শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আমিও গল্প লিখি, মিউজিক পছন্দ করি। এমন গল্প বহুকাল পড়ি না। ধৈর্য ধরে পড়তে বাধ্য হলাম। গল্পকারের চিন্তা ও দর্শন গভীর। তিনি সুরের কম্পনে সমগ্র সৃষ্টির গোড়া স্ট্রিং থিওরির তরঙ্গ খুঁজে পেয়েছেন! এরচে’ স্মার্টনেস আর কী হতে পারে! উদয় রহমান, অনেক ধন্যবাদ এই ক্লাসিক গল্পটি উপহার দেবার জন্য।’
আরও পড়ুন
ভাইরাল ঢাবি অধ্যাপককে অব্যাহতি, যা বলছেন নেটিজেনরা
লেখক সুরাইয়া পারভীন গল্পটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘একটা গল্প ফেসবুকারদের মোহাচ্ছন্ন করে ফেলেছে। উদয় রহমানের ‘সুর’। নিজের সংগ্রহে রাখতে হয়। সাথে বন্ধুলিস্টের কেউ যদি পড়েন। সেটা বাড়তি পাওনা। মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়তে থাকবেন। সুরে আচ্ছন্ন হয়ে হৃদয় মস্তিস্ক শিরা উপশিরা সব ঝিমঝিম করে। একটা লেখার প্রভাব এত!’
অনেকে প্রশংসা করলেও ব্যতিক্রম মন্তব্যও চোখে পড়েছে। গল্পকার সালমান সাদ লিখেছেন, ‘ফেসবুক জেনারেশন ফেসবুকের বাইরে কিছু পড়ে না। তাই একটা ফেসবুক গল্প পড়েই নীল দুনিয়া মাত—যাকে আবার গুণ বিচারে সার্থক ছোটগল্পও বলা যায় না! পাঠের কী দুর্ভিক্ষ। কী অমূল্য সব রত্নভান্ডার ছড়িয়ে আছে আমাদের বাঙলাভাষার সাহিত্যে! একটু খুঁজলেই বিপুল আনন্দরহস্যের গুহা তার আচ্ছন্ন করা গুপ্তধন সমেত প্রকাশিত হয়ে পরতো।’
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তার গল্পটি নিয়ে এত তোলপাড় কেন? এত এত মিডিয়ার যুগে ফেসবুকে প্রকাশিত একটি গল্প সবার হৃদয়কে কীভাবে নাড়া দিলো? পাঠ বিমুখতার যে প্রসঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে চর্চিত হচ্ছিল; সেই পারদে কি কিছুটা জল ঢালেনি গল্পটি? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে এখন সবচেয়ে বড় প্ল্যাটপর্ম বিবেচনা করা হয়। তাই এখানে আলোচিত হয়ে উঠলেই যে কোনো বিষয়ে তোলপাড় হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
এসইউ








