অ্যাডভোকেট আজাহারুল ইসলাম
অনেকেই মনে করেন, বার কাউন্সিল অ্যাডভোকেটশিপ এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষার সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো ড্রাফটিং। ফলে প্রশ্নপত্রে ড্রাফটিং এলে অনেক পরীক্ষার্থী ভয় পেয়ে উত্তরই লিখতে চান না। অথচ সঠিক ফরম্যাট অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় উপাদান যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারলে ড্রাফটিং থেকে খুব ভালো নম্বর অর্জন করা সম্ভব।
ড্রাফটিংকে অনেকটা গণিতের সঙ্গে তুলনা করা যায়। গণিতে যেমন নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে সঠিক উত্তর লিখতে পারলে পূর্ণ নম্বর পাওয়ার সুযোগ থাকে; তেমনই ড্রাফটিংয়েও নির্ধারিত কাঠামো অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সঠিকভাবে উল্লেখ করতে পারলে উচ্চ নম্বর পাওয়া যায়। অনেক সময় বর্ণনামূলক প্রশ্নের তুলনায় ড্রাফটিংয়ে ভালো নম্বর তোলা আরও সহজ হয়।
একটি মানসম্মত ড্রাফট লেখার ক্ষেত্রে আদালতের নাম, পক্ষগণের পরিচয়, প্রাসঙ্গিক আইন ও ধারা, মোকদ্দমার মূল্যমান (যেখানে প্রযোজ্য), ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ, প্রার্থিত প্রতিকার, সত্যপাঠ, হলফনামা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় যথাযথভাবে উল্লেখ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছু হুবহু মুখস্থ না থাকলেও কোন ধরনের ড্রাফটে কোন বিষয় প্রযোজ্য, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা আবশ্যক।
আরও পড়ুন
সপ্তাহের সেরা চাকরি: ৩ জুলাই ২০২৬
ড্রাফটিংয়ের ভয় কাটবে কীভাবে
ড্রাফটিংয়ের ভয় কাটানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত অনুশীলন। যারা নিয়মিত আদালতে কাজ করেন, তাদের জন্য বিষয়টি তুলনামূলক সহজ মনে হতে পারে। তবে যারা কোর্টে যাওয়ার সুযোগ পান না, তাদের কাছে শুরুতে ড্রাফটিং কঠিন মনে হওয়া স্বাভাবিক। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ড্রাফটিং অনুশীলনের জন্য বরাদ্দ করুন। বার কাউন্সিল লিখিত পরীক্ষার সহায়ক বইগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ড্রাফটের নমুনা থাকে। সেগুলো বারবার দেখে নিজের হাতে খাতায় লিখুন। পাশাপাশি পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন সমাধান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
একই ধরনের ড্রাফট কয়েকবার লিখতে লিখতে এর ফরম্যাট, ভাষা এবং প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো আপনার আয়ত্তে চলে আসবে। তখন দেখবেন, যে ড্রাফটিংকে একসময় সবচেয়ে কঠিন মনে হতো, সেটিই পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার অন্যতম সহজ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। মনে রাখবেন, ড্রাফটিং মুখস্থের বিষয় নয়; এটি সম্পূর্ণ অনুশীলনের বিষয়। যত বেশি লিখবেন; তত বেশি আত্মবিশ্বাসী হবেন।
আরও পড়ুন
শিক্ষা মানেই চাকরির সোপান নয়
ড্রাফটিং লেখার গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি
- ড্রাফটিং লেখার সময় মূল্যমান, অপরাধের ধরন বা মামলার প্রকৃতি অনুযায়ী আদালতের নাম, পক্ষগণের নাম-ঠিকানা, সংশ্লিষ্ট আইন ও ধারা, মোকদ্দমার মূল্যমান (দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে) এবং প্রার্থিত প্রতিকার সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।
- ড্রাফটিং সব সময় উত্তরপত্রের একটি নতুন (ফ্রেশ) পাতা থেকে শুরু করা উচিত।
- প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনা, মূল্যমান, অপরাধের ধরন বা অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে ড্রাফট প্রস্তুত করতে হবে।
- ড্রাফট সংক্ষিপ্ত কিন্তু পূর্ণাঙ্গ হতে হবে। অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা পরিহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধু বা চলিত যে কোনো একটি রীতি অনুসরণ করে পুরো ড্রাফট লিখতে হবে।
- ঘটনার বিবরণ ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে এবং প্রতিকার চাওয়ার কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। পয়েন্টগুলো ১, ২, ৩-এভাবে নম্বর দিয়ে পৃথক অনুচ্ছেদ বা প্যারা আকারে সাজিয়ে লিখলে উপস্থাপনা আরও সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হয়।
- সত্যপাঠ (ভেরিফিকেশন) ও হলফনামার (এফিডেভিট) ব্যবহার সঠিকভাবে করতে হবে। দেওয়ানি কার্যবিধির সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী প্রত্যেক আরজি ও জবাবের সঙ্গে হলফনামা সংযুক্ত করতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন পিটিশন বা দরখাস্তে পূর্ব থেকেই হলফনামা ব্যবহারের বিধান রয়েছে।
- সর্বোপরি ড্রাফটিংয়ের জন্য যে কোনো একটি সহায়ক বই বা নোট সাথে রেখে নিয়মিত খাতায় লিখে অনুশীলন করতে হবে।
লেখক: আইনজীবী, জজ কোর্ট, ঢাকা।
এসইউ








