ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৯০ রানে হার। তারৌবায় এই পরাজয়ের মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে দেশের বাইরে টানা অষ্টম হার দেখেছে পাকিস্তান, যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নতুন করে বাবর আজমকে টেস্ট অধিনায়ক করা এবং বোলিং আক্রমণে বড় পরিবর্তন আনার পরও মিলেনি কাঙ্ক্ষিত ফল।

দ্বিতীয় টেস্টের আগে বৃহস্পতিবার পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে ঐচ্ছিক অনুশীলনে নেমেছে পাকিস্তান দল। আগামী দুই দিনের পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে একাদশে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে কাজ করবে টিম ম্যানেজমেন্ট। এরই মধ্যে একটি পরিবর্তন নিশ্চিত হয়ে গেছে। প্রথম টেস্টে আঙুলে চোট পাওয়া শান মাসুদ ভেঙে যাওয়া তর্জনীর কারণে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন।

মাসুদের বদলি হিসেবে দলে ডাকা হয়েছে আবদুল্লাহ শফিক ও সৌদ শাকিলকে। প্রথম টেস্টের আগেই কোমরের চোটে আবদুল্লাহ ফজল সিরিজ ও ইংল্যান্ড সফর থেকে ছিটকে যাওয়ার পর এই দুজনকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এছাড়া স্কোয়াডে আছেন আনক্যাপড মিডল-অর্ডার ব্যাটার আওয়াইস জাফর।

তবে সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে অভিষেক করানোর চেয়ে অভিজ্ঞদের ওপরই আস্থা রাখার সম্ভাবনা বেশি। সমস্যা হলো, শফিক কিংবা শাকিল—কেউই টেস্টে তিন নম্বরে ব্যাট করার অভিজ্ঞতা নেই, যে জায়গায় খেলতেন শান মাসুদ।

প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে বাবর আজম তিন নম্বরে নেমে অপরাজিত অর্ধশতক করলেও পাকিস্তান চাইবে তাকে আবার চার নম্বরে ফিরিয়ে আনতে। কারণ এই পজিশনেই তার গড় ৫০-এর বেশি।

সেক্ষেত্রে তিন নম্বরে খেলানো হতে পারে ওপেনার আবদুল্লাহ শফিককে। আরেকটি বিকল্প হলো ওপেনার ইমাম-উল-হক বা আজান আওয়াইসকে তিন নম্বরে নামিয়ে শফিককে ওপেনিংয়ে ফেরানো। যদিও এই দুই ব্যাটারও আগে কখনও টেস্টে তিন নম্বরে খেলেননি।

অন্যদিকে বাবরকে তিন নম্বরেই রেখে দিলে মিডল অর্ডারে সৌদ শাকিলকে ফেরানো কিংবা আওয়াইস জাফরকে অভিষেক করানোর সুযোগ তৈরি হবে।

প্রথম টেস্টে পাকিস্তান মাত্র ছয়জন বিশেষজ্ঞ ব্যাটার নিয়ে খেলেছিল, যা বিস্ময় তৈরি করেছিল। অলরাউন্ডার আমের জামালকে সাত নম্বরে খেলিয়ে ভারসাম্য আনার পরিকল্পনা থাকলেও তিনি ব্যাট-বল দুই বিভাগেই ব্যর্থ হন। দুই ইনিংসে মাত্র ৩ ও ০ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নেন মাত্র দুই উইকেট, খরচ করেন ১২০ রান।

এ কারণে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তান আবার সাত ব্যাটার ও চার বোলারের কৌশলে ফিরতে পারে। সম্ভাব্য টপ অর্ডারে থাকতে পারেন আজান আওয়াইস, ইমাম-উল-হক, আবদুল্লাহ শফিক, বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সৌদ শাকিল ও সালমান আলী আগা।

প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের পেসাররা ওয়েস্ট ইন্ডিজের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ধীরগতির ছিলেন। পাকিস্তানি পেসারদের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ১২৮.৪ কিলোমিটার, যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের গড় ছিল ১৩২.৩ কিলোমিটার।

কুইন্স পার্ক ওভালের উইকেটও যদি তারৌবার মতো পেস-সহায়ক হয়, তাহলে একাদশে সুযোগ পেতে পারেন তরুণ গতিতারকা উবাইদ শাহ। নাসিম শাহ ও হুনাইন শাহর ছোট ভাই উবাইদ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করার সামর্থ্য রাখেন। বর্তমানে দলে থাকা মোহাম্মদ আব্বাস, খুররম শাহজাদ ও মোহাম্মদ আলী মূলত লাইন-লেংথ নির্ভর বোলার হওয়ায় উবাইদের গতি পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

প্রথম টেস্টে স্পিনারদের ভূমিকা ছিল না বললেই চলে। ম্যাচের চার দিনে মোট ওভারের মাত্র ১১ শতাংশ বল করেছেন দুই স্পিনার আলি উসমান ও জোমেল ওয়ারিকান। ইতিহাসে মাত্র ষষ্ঠবারের মতো একটি টেস্টে ৪০টি উইকেটই গেছে পেসারদের ঝুলিতে।

একই ধরনের উইকেট হলে পাকিস্তান আলি উসমানকে বাদ দেওয়ার কথাও ভাবতে পারে। এতে ব্যাটিং আরও লম্বা হবে এবং জামালকে রেখে শফিক ও শাকিল দুজনকেই একাদশে নেওয়া সম্ভব হবে। আরেকটি বিকল্প হলো জামালের জায়গায় উবাইদ শাহকে খেলিয়ে পুরোপুরি পেস আক্রমণ সাজানো, যেখানে প্রয়োজন হলে খণ্ডকালীন স্পিন করবেন সালমান আলী আগা।

তবে উইকেটে টার্নের সম্ভাবনা থাকলে পাকিস্তান অফস্পিনার সাজিদ খানকে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। তিনি নিচের দিকেও কার্যকর ব্যাটিং করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আলি উসমানের পরিবর্তে সাজিদকে খেলিয়ে একজন স্পিনার নিয়েই মাঠে নামার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

পোর্ট অব স্পেনে পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ সময় আগামীকাল (রোববার) রাত আটটায়। সিরিজে সমতা ফেরাতে একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনার বিকল্পও নেই বাবর আজমের সামনে।

এমএমআর