মাত্র ১০ বছরে ১০টি চাকরি বদলে নিজের কাঙ্ক্ষিত পেশায় পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার বাসিন্দা ব্রিটানি হ্যারিস-নেলসন। তার এই যাত্রাকে তিনি তুলনা করেন পদ্মপাতা থেকে পদ্মপাতায় ব্যাঙের লাফ দেওয়ার সঙ্গে। কর্মজীবনের প্রতিটি পরিবর্তনই তাকে ধীরে ধীরে লক্ষ্যের কাছাকাছি নিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে ৩২ বছর বয়সী ব্রিটানি উইনস্টন-সালেমের ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অব স্টুডেন্ট এনগেজমেন্ট হিসেবে কর্মরত। এই পদে পৌঁছাতে তিনি প্রায় এক দশক ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক চাকরি বদলেছেন। প্রতিটি নতুন চাকরি থেকে নতুন দক্ষতা অর্জনই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
এই সময়ে তিনি ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১০টি পদে কাজ করেছেন। এর মধ্যে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় একাধিক খণ্ডকালীন চাকরির পাশাপাশি পরে তিনটি পূর্ণকালীন পদেও দায়িত্ব পালন করেন। অফিস ম্যানেজার, ভর্তি পরামর্শক ও শিক্ষার্থী উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে বর্তমান পদে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।
ব্রিটানি জানান, চাকরি বদলের সঙ্গে তার বেতন খুব বেশি বাড়েনি। তবে তিনি বেশি ছুটি, উন্নত পেনশন সুবিধাসহ অন্যান্য কর্ম-সুবিধা পেয়েছেন। তার ভাষায়, প্রতিটি চাকরি তাকে নতুন অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়েছে, যা বর্তমান দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনারেশন জেড বা ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণদের মধ্যে এখন লিলি প্যাডিং নামে নতুন একটি কর্মপ্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে তারা একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কাজ না করে দক্ষতা বাড়ানো, ভালো পদ ও বেশি আয়ের আশায় নিয়মিত চাকরি পরিবর্তন করছেন।
নিয়োগ প্রতিষ্ঠান র্যান্ডস্ট্যাডের ২০২৪ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, কর্মজীবনের প্রথম পাঁচ বছরে জেন জেড কর্মীরা গড়ে মাত্র ১ দশমিক ১ বছর একটি চাকরিতে থাকেন। যেখানে মিলেনিয়ালদের ক্ষেত্রে এ সময় ১ দশমিক ৮ বছর এবং তার আগের প্রজন্মের ক্ষেত্রে প্রায় তিন বছর।
কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ কর্মীরা এখন শুধু চাকরিতে স্থায়িত্ব নয়, বরং নতুন দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং দ্রুত ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই প্রয়োজনে তারা নতুন প্রতিষ্ঠান, নতুন খাত কিংবা নতুন দায়িত্ব নিতে দ্বিধা করছেন না।
ব্রিটানির মতে, ক্যারিয়ার কোনো গন্তব্য নয়, এটি একটি চলমান যাত্রা। আমি সব সময় নতুন কিছু শিখতে ও নিজেকে আরও উন্নত করতে চাই।
সূত্র: বিবিসি
এমএসএম








