স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় দপ্তরের নবাগত পরিচালক এস এম মনিরুজ্জামান সোমবার যোগদান করে মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় যান। কিন্তু আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তাঁর যোগদানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি পরিচয়ধারী একদল চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী। নগরের ব্রাউন কম্পাউন্ড বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ হয়।

পরে তাঁরা স্বাস্থ্য পরিচালকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। তবে পরিচালক দাবি করেছেন, ড্যাবের একটি পক্ষ মব সৃষ্টি করছে।

জানা গেছে, বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগ ছিলেন বেসরকারি সাউথ অ্যাপোলো মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষক। তাঁদের দাবি, মনিরুজ্জামান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ছিলেন।

এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপিপন্থী চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরোধের জেরে এক পক্ষের প্ররোচনায় স্বাস্থ্যের পরিচালকের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ করা হয়।

বেলা সাড়ে ১১টায় দেখা গেছে, বিভাগীয় পরিচালকের দপ্তরের নিচতলায় মেডিকেল কলেজের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে নবনিযুক্ত পরিচালকের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের ব্যানারে লেখা ছিল—‘বরিশাল বিভাগের সর্বস্তরের চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও সাধারণ জনগণ।’

সাউথ অ্যাপোলো মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিলুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে বরিশালে নিরাপদে চাকরি করেছেন ডা. মনিরুজ্জামান। দীর্ঘদিন শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের উপপরিচালক ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের সময়ে আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন মনিরুজ্জামান। জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিকে বিভাগীয় পরিচালক পদে দেখতে চান না তাঁরা। তাঁকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হবে না।

তবে পরিচালক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার নিয়োগ আদেশ পেয়ে ডা. মনিরুজ্জামান সোমবার নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। তিনি মঙ্গলবার সকাল ৯টায় অফিসে পৌঁছে ৫ দিনের ছুটিতে সকাল ১০টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। বিক্ষোভের সময়ে তিনি দপ্তরে ছিলেন না।

এ বিষয়ে পরিচালক মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, ২০২১ সালে গঠিত জেলা ড্যাবের কমিটিতে তিনি ৮৮ নম্বর সদস্য। বরিশাল ড্যাবে অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে। তিনি এক পক্ষের আগ্রহে পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। অপর পক্ষের প্ররোচনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়। এটা একধরনের মব।

বরিশাল জেলা ড্যাবের সভাপতি কবিরুজ্জামান জানান, ডা. মনিরুজ্জামান ছাত্রজীবনে ছাত্রদল করেছেন। আওয়ামী লীগের আমলেও ড্যাবের সঙ্গে ছিলেন। শেবাচিম হাসপাতালে প্রশাসনিক পদে থাকায় আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হন।

অন্যদিকে ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম সাদ বলেন, ডা. মনিরুজ্জামান জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় তাঁকে পরিচালক নিয়োগ অনেকে মানতে পারছেন না। তাই বিক্ষোভ হয়েছে।