বরিশাল নগরীতে ইজিবাইক ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগেই বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তিন মাস আগের পুরোনো ভাড়া বহাল রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা মানছেন না চালকদের একটি বড় অংশ। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৩০ জুন) নগরীর নবগ্রাম রোড অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ ইজিবাইক উচ্ছেদে পুলিশের সমন্বয়হীনতা ও মালিক-শ্রমিক সংগঠনের দ্বন্দ্বে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠেছে।সোমবার নগর ভবনে এক জরুরি সভায় বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন ঘোষণা দেন, কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না এবং আগের ভাড়াই কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে বিসিসি অনুমোদিত ৭ হাজার ১০০ ইজিবাইকের বাইরে বাকি প্রায় ২৩ হাজার অবৈধ যান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু আজ সকাল থেকেই চালকদের বাড়তি ভাড়া আদায়ের চিত্র দেখা গেছে।এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারি বিএম কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নবগ্রাম সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের কোনো নিজস্ব আয় নেই। হুটহাট ভাড়া বাড়ালে আমাদের পড়াশোনা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।’অন্যদিকে চালকদের দাবি, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে পুরোনো ভাড়ায় টিকে থাকা অসম্ভব। চালক মহসিন ও মাইনুল বলেন, ‘প্রতিদিন মালিককে ৬০০-৭০০ টাকা জমা দিয়ে আমাদের হাতে কিছুই থাকে না। গাড়ির সংখ্যা বাড়ায় যাত্রীও কমে গেছে।’ভাড়া কার্যকর করার বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা জানান, ভাড়া নিয়ন্ত্রণের কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা তারা পাননি। তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে কোনো ভাড়া বাড়বে না। ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমি আবারও বিষয়টি তদারকি করছি।’এদিকে ইজিবাইক চালকদের প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ‘রিকশা ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ’ অভিযোগ করেছে, প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠ ও বিতর্কিত একটি সংগঠনকে নিয়ে বৈঠক করেছে সিটি করপোরেশন। সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের দাবি, এর ফলে মাঠপর্যায়ের বাস্তব প্রতিফলন ঘটেনি এবং সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে।সব মিলিয়ে ভাড়া নির্ধারণ, অবৈধ ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে বরিশালের পরিবহন সংকট এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এই অচলাবস্থা কাটার কোনো লক্ষণ দেখছেন না নগরবাসী।