আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে ২৫ টাকা খরচ হলেও শুধু উৎপাদন ব্যয় দিয়ে প্রকল্পটির মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর বিষয়টিও হিসাবের মধ্যে আনতে হবে।

গতকাল রোববার বেলা ১টার দিকে পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমিনবাজার থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২৫ টাকা পার ইউনিট খরচ পড়বে। সেখানে ৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে—এটা নিয়ে অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখছেন। সোশ্যাল মিডিয়া একটি ওপেন প্ল্যাটফর্ম। এখানে যে কেউ লিখতে পারে, মতামত দিতে পারে।’

নুর বলেন, ‘আমার সকলের প্রতি বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ থাকবে, সচেতন নাগরিক হিসেবে কোনো একটি বিষয় নিয়ে লেখালেখির আগে আমরা সেই বিষয় নিয়ে একটু গবেষণা করি। এখন গুগল, ইউটিউব এবং এআইয়ের মাধ্যমে আপনি যা লিখবেন, সেখানে মোটামুটি একটা তথ্য পাওয়া যায়।’

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বেশি হলেও এর পরিবেশগত সুফল বিবেচনা করা প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ২৫ টাকা খরচ পড়ছে। এর সবচেয়ে বড় ইফেক্ট হচ্ছে, এই বর্জ্য বায়ুদূষণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যের ওপর যে প্রভাব ফেলছে, এটার ক্ষতি কিন্তু কয়েক মিলিয়ন।’

নুরুল হক নুর বলেন, ‘সেই ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা একটি বর্জ্যকে দূষণ থেকে মুক্ত করে সেটাকে পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশনের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারছি। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এখানে কস্ট বেশি পড়ছে, আবার অন্যদিকে বেনিফিটও রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সুতরাং এটা আওয়ামী লীগের আমলে রেন্টাল-কুইক নামে ডাকাতি কিংবা ক্যাপাসিটি চার্জের নামে লুটপাট—এখানে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।’

এর আগে প্রতিমন্ত্রী পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রকল্পের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।