প্যারাগুয়ের সিনেটর সেলেস্তে আমারিয়া ও ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপের মধ্যে চলমান বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। বর্ণবাদী মন্তব্যের জেরে এমবাপে তাকে ‘জঘন্য নারী’ বলার পর এবার সেই মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা দাবি করেছেন আমারিয়া। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, এই ভাষা নারীর প্রতি সহিংসতার শামিল।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে প্যারাগুয়ের হারের পর। ম্যাচ শেষে গোলরক্ষক অরলান্ডো গিলের সঙ্গে করমর্দন না করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এমবাপেকে নিয়ে আপত্তিকর ও বর্ণবাদী মন্তব্য করেন আমারিয়া। তিনি এমবাপের চেহারা, আফ্রিকান বংশোদ্ভূত পরিচয় এবং জাতিগত পরিচয় নিয়ে কটূক্তি করেন, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

এর জবাবে সোমবার এমবাপে এক্সে লেখেন, ‘ম্যাডাম সেলেস্তে আমারিয়া, আপনি একজন জঘন্য নারী, যিনি নিজের পদমর্যাদার যোগ্য নন। আপনি প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না। আপনার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও প্রকাশ্য বর্ণবাদের কারণে বিশ্ব এখন প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ অভিযানের বদলে আপনাকেই মনে রাখছে।’

এর কয়েক ঘণ্টা পর আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান আমারিয়া। তিনি বলেন, তার বিরোধ ফ্রান্সের সঙ্গে নয়, শুধুই এমবাপের সঙ্গে। নিজের ফ্রান্স-সংযোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। দাবি করেন, দুই বছর বয়স থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত তিনি একটি ফরাসি স্কুলে পড়েছেন, ফরাসি ভাষায় কথা বলতে পারেন এবং একাধিকবার ফ্রান্স সফর করেছেন।

এমবাপের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ম্যাচের আগে ও পরে ফরাসি তারকার কিছু বক্তব্যে প্যারাগুয়ে দলকে অপমান করা হয়েছে। তবে তিনি এমবাপের একটি মন্তব্যের ব্যাখ্যা ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন বলেও মনে করা হচ্ছে। ম্যাচ শেষে এমবাপে বলেছিলেন, ‘জিততে হলে যদি কঠিন লড়াইয়ে নামতে হয়, আমরা সেটাই করব।’ কিন্তু আমারিয়ার দাবি, এই বক্তব্যে প্যারাগুয়ে দলকেই ‘ময়লা’ হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

আমারিয়া আরও বলেন, এমবাপের ‘জঘন্য নারী’ মন্তব্য তার ব্যক্তিগত মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে এবং এটি নারীদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ। তাই তিনি ফরাসি তারকার কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা দাবি করেছেন। এদিকে, এমবাপের পক্ষ থেকে সিনেটরের সর্বশেষ বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

আরআর/আইএইচএস/