জমকালো আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে প্রশাসন। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ আয়োজন দুইটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. একেএম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. মাহ্দী আমিন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক ও ওরিয়েন্টেশন বক্তা প্রফেসর ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, ইউজিসির সদস্য ও প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন সহ আরও অনেকে।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মনজুরুল হক-সহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দুই-সহস্রাধিক নবীন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
দিনটি উপলক্ষে প্রথম পর্বে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন এবং ইসলামিক ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অনুষদের শিক্ষার্থী ও দ্বিতীয় পর্বে ব্যবসায় প্রশাসন, বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক দিয়ে অতিথিদের বরণ, শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্বাগত ও সমাপনী বক্তব্যে নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ‘আজকে তোমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারভুক্ত হয়েছ। তোমরা তোমাদের মেধা, একাগ্রতা, আন্তরিকতা, অধ্যবসায় এবং বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে একজন দক্ষ, যোগ্য, ইফিশিয়েন্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।’
তিনি আরও বলেন, তোমরা যে অর্থে এখানে পড়ার সুযোগ পেয়েছো, এ অর্থ এসেছে সাধারণ মেহনতি মানুষ ও কৃষকদের ট্যাক্সের টাকায়। এই যে সুযোগ তুমি পেয়েছো, এ সুযোগটা কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র, দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করবে, সেভাবে নিজেকে তৈরি করবে। আগামী দিনে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে তোমরাই। বিশ্ববিদ্যালয় এই জায়গাতে সবসময় তোমাদের পাশে থাকবে এবং অতীতের মতো ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সফট স্কিল নিয়ে বের হওয়ার ব্যবস্থা করতে চাই। যেমন, ডিজিটাল লিটেরাসি, কমিউনিকেশন স্কিল, ক্রিটিকেল থিংকিং। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হবে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে ইন্টার্ণশিপ ম্যান্ডেটরি করার প্লান করছি। এজন্য তারা আর্থিক সুবিধা পাবে। সব ক্যাম্পাসকে আমরা ডিজিটাল ট্রান্সফর্ম করবো। পুরো ক্যাম্পাস ওয়াইফাই ও হাইস্পিড কানেক্টেড থাকবে। ডিজিটাল ক্লাসরুম, ডিজিটাল ক্যাম্পাস, আমরা প্রান্তিক বলতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় রাখবো না।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, ‘লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই। লেখাপড়া করতেই হবে এবং সময়কে কাজে লাগাতে হবে। দেশ গড়তে হবে, দেশ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা চাই তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। যা চেয়েছে আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান। এছাড়া কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি আন্তর্জাতিক মানের হবে।’
ইরফান উল্লাহ/কেজে/এএসএম








