ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও প্রশাসনিক ভবন থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোভাযাত্রাসহ স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে সমবেত হন। পরে সকাল পৌনে ১০টায় মিনিটে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।

সকাল ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মাঠে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোতে পতাকা উত্তোলন, কেক কাটা এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের থিম সং পরিবেশন করেন। পরে টিএসসি মিলনায়তনে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উšে§াচন এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাতারে স্থান করে নিতে সক্ষম হবে।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক এএফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে বিভক্ত করার মধ্য দিয়েই জ্ঞানের সংকট তৈরি হয়েছে। গবেষণার ঘাটতির চেয়ে এর ফল যথাযথভাবে প্রকাশ এবং প্রয়োগ না হওয়ার পেছনে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দায় বেশি।

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও উন্নত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের শীর্ষ ২০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে নিয়ে যাওয়াই এখন লক্ষ্য। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও কাঙ্ক্ষিতভাবে বিকশিত হতে পারে না।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং অংশীজনদের সহযোগিতার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব। ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সাবেক শিক্ষার্থীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবসময় ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। দিবসটি উপলক্ষ্যে বিকালে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে প্যানেল আলোচনা, রাজু ভাস্কর্যের সামনে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কনসার্ট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইক্লিং ক্লাবের উদ্যোগে সাইকেল র‌্যালি ও স্টান্ট শোর আয়োজন করা হয়।