বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ হিসাবে এবার যুক্তরাষ্ট্রকে সমীহই করছে প্রতিপক্ষরা। গ্রুপপর্বে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে গ্রুপসেরা হিসাবেই শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে তারা। এবার শেষ ষোলোর টিকিটের লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ বসনিয়া। অনেকেই দলটিকে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ হিসাবে দেখলেও মার্কিন অধিনায়ক টিম রিম সতর্ক করে দিয়েছেন, বসনিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আগামীকাল সকাল ৬টায় সান ফ্রান্সিসকোয় শুরু হবে ম্যাচটি। তিন স্বাগতিক দেশের মধ্যে প্রথম দল হিসাবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অধিনায়ক টিম রিম বলেন, ‘বসনিয়ার বিশ্বকাপে ওঠা কিংবা নকআউটে জায়গা করে নেওয়া কোনোভাবেই কাকতালীয় নয়। ইউরোপিয়ান প্লে-অফে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে বিদায় করেই তারা বিশ্বকাপে এসেছে। এরপর গ্রুপপর্বও নিজেদের যোগ্যতায় পেরিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি তারা শক্তিশালী এবং শারীরিকভাবে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি দল। তারা যে প্লে-অফ পেরিয়ে ইতালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে, সেটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে এবং প্রতিটি দিকেই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ শুরু করেছে দারুণভাবে। প্রথম দুই ম্যাচে প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রত্যাশার পারদ অনেকটাই উঁচুতে নিয়ে যায় তারা। যদিও শেষ ম্যাচে তুরস্কের কাছে হেরে সেই উচ্ছ্বাস কিছুটা কমে। তবু কাগজে-কলমে বসনিয়ার বিপক্ষে পরিষ্কার ফেভারিট যুক্তরাষ্ট্র। জিততে পারলে এটি হবে বিশ্বকাপের নকআউটপর্বে তাদের ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০০২ বিশ্বকাপে মেক্সিকোকে ২-০ গোলে হারিয়ে একমাত্র নকআউট জয় পেয়েছিল তারা। বি-গ্রুপ থেকে তৃতীয় সেরা দল হিসাবে শেষ ষোলোয় উঠেছে বসনিয়া। সহ-স্বাগতিক কানাডার সঙ্গে ড্র এবং কাতারের বিপক্ষে জয় তাদের নকআউটে তুলেছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাদের। পরিসংখ্যানও বলে খুব একটা এগিয়ে নেই বসনিয়া। ৪৮ দলের মধ্যে বল দখলের হিসাবে তাদের অবস্থান ৩৩তম, শট নেওয়ার তালিকায় ৩৮তম এবং প্রতিপক্ষের বক্সে শট নেওয়ার পরিসংখ্যানে ৪১তম। দলটি মূলত রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও শৃঙ্খলাকেই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসাবে ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়কের ধারণা, এই ম্যাচে সেটপিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।