বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল তুঙ্গস্পর্শী উত্তেজনার রাউন্ড। শুধু তারকার ঝলকই নয়, দলের মানসিক শক্তি, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ত্বরিত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেন ও বেলজিয়ামের শেষ আটের লড়াইয়ে সেই কঠিন পরীক্ষা হবে। দুদলই ইউরোপের। পরস্পরের খেলার ধরন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা আছে তাদের।

বিশ্বকাপের শেষ আটে আজ লড়াই শুধু এ দুই দলের শক্তিমত্তার নয়, দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনেরও। একদিকে স্পেনের নিয়ন্ত্রিত পজেশন নির্ভর ফুটবল আর অন্যদিকে বেলজিয়ামের প্রাণবন্ত আক্রমণ। সেমিফাইনালের টিকিট পেতে দুদলকেই নিজেদের শক্তির জায়গাগুলো কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের দুর্বলতাও খুঁজে বের করতে হবে।

স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বল নিয়ন্ত্রণে পারদর্শিতা। তারা প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় বলের পেছনে দৌড়াতে বাধ্য করে। এতে প্রতিপক্ষের শক্তি ক্ষয় হয়। মাঝমাঠে দ্রুত বল আদান-প্রদান, জায়গা তৈরি করা এবং ধৈর্য ধরে আক্রমণের সুযোগ খোঁজা-এটাই স্পেনের ফুটবলের মূল বৈশিষ্ট্য। তবে শুধু বলের দখল থাকলেই হবে না, শেষ তৃতীয়াংশে সেই আধিপত্যকে গোলের সুযোগে রূপান্তরও করতে হবে। লামিনে ইয়ামালের মতো তরুণ প্রতিভা এখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তার ড্রিবলিং, প্রতিপক্ষকে হারানোর ক্ষমতা এবং সঠিক সময়ে সৃজনশীল পাস দেওয়ার দক্ষতা স্পেনের আক্রমণে বাড়তি ধার যোগ করেছে।

বেলজিয়ামের শক্তি হলো সরাসরি আক্রমণ এবং দ্রুতগতির ফুটবল। তারা প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাই গতি বাড়িয়ে আক্রমণে যেতে পারে। বিশেষ করে জেরেমি ডোকুর মতো উইঙ্গাররা এক মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। রয়েছেন অভিজ্ঞ লুকাকু ও ডি ব্রুইনার মতো শিল্পী ফুটবলার। তবে বেলজিয়ামকে স্পেনের পাসিং ফুটবলের বিপক্ষে ধৈর্য ধরে খেলতে হবে। মাঝমাঠে জায়গা ছেড়ে দিলে স্পেন সেটির সুযোগ নিতে পারে। তাদের রক্ষণভাগকে শুধু ইয়ামাল নয়, স্পেনের পুরো আক্রমণভাগের গতিবিধির দিকে নজর রাখতে হবে। বেলজিয়ামের পালটা আক্রমণ কখনো কখনো ভয়ানক হয়ে ওঠে। আসলে এই পর্যায়ে এসে কাউকেই কারও থেকে কম বলা যায় না। নকআউট পর্বে কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তাই পার্থক্য গড়ে দেয়। তারপরও এই ম্যাচে আমার কাছে এগিয়ে থাকবে বেলজিয়াম। তাদের দলীয় একাত্মতা খুবই ভালো।