স্বপ্নভঙ্গ আর উল্লাসের মাঝখানে পার্থক্য গড়ে দিল মাত্র দুই মিনিট। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, তখনই স্পেনের হয়ে নায়কের ভূমিকায় আবির্ভূত হলেন মিকেল মেরিনো। ৮৮ মিনিটে তার দুর্দান্ত গোলে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। শেষ চারের লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স। যারা আগেই মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতে। লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো ও ফাবিয়ান রুইজদের দ্রুত পাসিং আর বল দখলের ফুটবলে চাপে পড়ে যায় বেলজিয়াম। সেই চাপেরই ফল আসে ৩০ মিনিটে। পেদ্রো পোরোর দারুণ আক্রমণ থেকে দানি ওলমোর শট প্রথমে ঠেকান থিবো কোর্তোয়া। কিন্তু ফিরতি বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফাবিয়ান রুইজ জালে বল জড়িয়ে স্পেনকে এগিয়ে দেন। এত সহজে হার মানার দল নয় বেলজিয়াম। ম্যাচের ৪১ মিনিটে টিমোথি কাস্তানিয়ের নিখুঁত ক্রসে হেডে সমতা ফেরান চার্লস ডি কেটেলারে। সেটিই ছিল এই বিশ্বকাপে স্পেনের প্রথম হজম করা গোল।

দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন একের পর এক আক্রমণ চালালেও বেলজিয়ামের রক্ষণ দৃঢ়তা দেখায়। মাঝপথে বড় ধাক্কা খায় রেড ডেভিলসরা। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া। বদলি হিসাবে নামেন সেনে ল্যামেন্স। স্পেন কোচ ধারাবাহিক পরিবর্তন এনে আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেন। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের অপেক্ষায়, তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৮৮ মিনিটে গড়ে ওঠা দারুণ এক আক্রমণে মিকেল মেরিনো বেলজিয়ামের জালে বল পাঠিয়ে স্পেনকে আবারও এগিয়ে দেন। শেষ মুহূর্তে মরিয়া চেষ্টা করেও আর সমতায় ফিরতে পারেনি বেলজিয়াম। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ শিবির। সেইসঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করল স্পেন। সামনে অপেক্ষা করছে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেমিফাইনালে তাদের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। ইউরোপের দুই পরাশক্তির এই লড়াই এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মহারণে পরিণত হয়েছে।