‘সারাদিনে যা আয় করি, তা দিয়েই সংসার চলে। আজ বের না হলে বাজার করার টাকাও থাকবে না। পেট তো আর বৃষ্টি বুঝে না। আমাগো গরিবের আর ঝড়বৃষ্টি।’
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় কথাগুলো বলছিলেন ভ্যানচালক মনিরুল।
নগরীতে টানা বর্ষণে জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতা ও যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লোকজন। তবে এই বৃষ্টি উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নেমেছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষরা। ভ্যান ও রিকশা নিয়ে তারা ছুটছেন একটুখানি আয়ের আশায়।

আজিমপুর, নিউমার্কেট ও লালবাগ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অবিরাম বৃষ্টির মধ্যেও অনেক রিকশা ও ভ্যানচালক যাত্রী খুঁজে বেড়াচ্ছেন। কারও শরীরে রেইনকোট নেই, কেউ কেউ গায়ে পলিথিন জড়িয়ে বৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। ভেজা কাপড়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় থাকতে হচ্ছে তাদের।
শ্রমজীবী মানুষরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন দিন এনে দিন খাওয়া মানুষগুলো। একদিন কাজ না করলে পরিবারের খাবার, বাসাভাড়া কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ঝুঁকি ও দুর্ভোগ সঙ্গী করেই তারা প্রতিদিনের মতো রাস্তায় নামতে বাধ্য হন।

আজিমপুর এলাকায় রিকশাচালক জমির বলেন, ‘বৃষ্টি হলে আমাদের কষ্ট বাড়ে, কিন্তু ঘরে বসে থাকলে তো চলবে না। একদিন আয় না হলে সেদিন পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। তাই ভিজেই রিকশা চালাচ্ছি।’
লালবাগের আরেক রিকশাচালক ফারুক বলেন, ‘সকাল ধরে ভিজতেছি। বৃষ্টির দিনে ১০-২০ টাকা ভাড়া বেশি নিই, কষ্টও তো বেশি। গরিব মানুষ, বসে খাইলে তো চলবো না।’
এদিকে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করায় রিকশা ও ভ্যানচালকদেরও অতিরিক্ত কষ্ট করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি ঠেলে রিকশা চালাতে দেখা গেছে। তবে সড়কে ইঞ্জিনচালিত অটোরিকশার সংখ্যাই বেশি দেখা গেছে।
এনএস/একিউএফ








