দেশে মানসম্মত ফল ও খাদ্যপণ্য উৎপাদিত হলেও যথাযথ প্রচারের অভাব, ভোক্তাদের সচেতনতার ঘাটতি এবং কৃষক ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে খাতটির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
এমনটাই মন্তব্য করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও ফল প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিকাশে সরকার, বিজ্ঞানী, কৃষক ও ভোক্তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।
রাজধানীর বাড্ডায় জাগো নিউজ কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
শনিবার (২৭ জুন) অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন জাগো নিউজের সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হক। এতে সরকারি কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা, কৃষক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজের হোসাইন বলেন, বাংলাদেশের ভোক্তারা সাধারণত পণ্যের গুণগত মান বা উৎপত্তির চেয়ে কম দামের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন। ফলে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য বেছে নেওয়ার প্রবণতা কম, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
জাগো নিউজ কার্যালয়ে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন/ছবি: জাগো নিউজ
তিনি জানান, বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন উন্নত জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করলেও মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে তাদের কার্যকর যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে গবেষণার সুফল কৃষকের কাছে পৌঁছায় না এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হয়।
ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, অধিক মুনাফার আশায় অনেক সময় কৃষক ও মধ্যস্বত্বভোগীরা প্রয়োজনীয় সময় না মেনে কৃষিপণ্য বাজারজাত করেন। একই সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অনিয়মের কারণে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের প্রতি ভোক্তাদের আস্থা কমছে। এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের রপ্তানি বাজারেও পড়ছে।
ক্যাবের এই নেতা দাবি জানান, কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে সরকারকে কার্যকর নীতিসহায়তা দিতে হবে। বিশেষ করে পরিবহন ও ফ্রেইট ব্যয় কমানো, কোল্ড স্টোরেজ সুবিধার সম্প্রসারণ এবং সরকারি উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
আরও পড়ুন
ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ সারিতে, প্রক্রিয়াজাতকরণে নেই গতি
নাজের হোসাইনের মতে, সরকারি বিভিন্ন সংস্থা কৃষক ও উদ্যোক্তাদের কাছে নানান বার্তা পৌঁছে দিলেও ভোক্তাদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম তুলনামূলক কম। ফলে দেশীয় ভালো পণ্য সম্পর্কে সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত তথ্য পান না। এ কারণে মানসম্মত স্থানীয় পণ্য উৎপাদিত হলেও অনেকেই বিদেশি পণ্যের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। দেশীয় পণ্যের প্রচারে সরকারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও ফল প্রক্রিয়াজাত শিল্পের টেকসই উন্নয়নে সরকার, বিজ্ঞানী, কৃষক, উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।
জাগো নিউজ আয়োজিত ‘ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত অতিথিরা, ছবি: জাগো নিউজ
গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের সাবেক উপাচার্য, গবেষক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী, বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও ফল বিশেষজ্ঞ ড. মো. মেহেদী মাসুদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক (খাদ্য ও কৃষি) এনামুল হক, প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইলিয়াছ মৃধা, হাসেম ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হাসেম, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইকতাদুল হক, কাজু অ্যান্ড কফি অ্যাগ্রোর নির্বাহী পরিচালক মো. মাহাতাব আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি উদ্যোক্তা ইসমাইল খান শামীম ও নওগাঁর কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা।
ইএআর/একিউএফ/এমএমএআর/এমএফএ








