ফরিদপুরের ভাঙ্গার শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে অন্যত্র বদলি করায় উপজেলার শিক্ষক ও দপ্তরিরা তাকে অবরুদ্ধ করেন। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মঙ্গলবার তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ দিয়ে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলায় যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ কারণে ওই দিনই উপজেলার শিক্ষকরা ওই কর্মকর্তাকে তদন্ত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে অবরুদ্ধ করেন।
মঙ্গলবার উপসচিব সাখাওয়াত হোসেন সরকার সাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বদলির ওই নির্দেশ দেওয়া হয়। এ খবরে উপজেলার শিক্ষক ও দপ্তরিরা ছুটে এসে শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করেন। পরে উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শিক্ষকরা ভাঙ্গার ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর ওই কর্মকর্তাকে সবপক্ষের মুখোমুখি করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে ৭ ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করেন শিক্ষকরা।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি সামচুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষক বদলি বাণিজ্য, ঘুস নিয়ে দপ্তরি নিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের টেন্ডার ছাড়া নিজ ক্ষমতায় বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া অনৈতিকভাবে অনেকের থেকে অর্থ নিয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নামের অ্যাকাউন্টে বরাদ্দকৃত টাকা না রেখে তার নিজ অ্যাকাউন্টে সব টাকা জমা রেখেছেন।
শিক্ষকরা ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত বিচারের দাবি জানান। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সবার অভিযোগ শুনে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করব। তবে তাদের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিয়া মহিউদ্দিন জানান, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ নেই। তবে মৌখিকভাবে অনেক অভিযোগ পেয়েছি।
এ বিষয়ে ভাঙ্গার ইউএনও মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, শিক্ষক ও দপ্তরিদের অভিযোগ শুনেছি। শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া যাদের টাকা-পয়সা নিয়েছেন, তাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবারের মধ্যে লেনদেন পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর তার ব্যক্তিগত ও কার্যালয়ের অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ করতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।







