ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সুমন শেখ (২০) নামে এক যুবক ‘গুলিতে’ নিহত হওয়ার ঘটনায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। আজ বুধবার দুপুরে ও পরে সন্ধ্যায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। এ সময় তাঁরা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজিব মাতুব্বরকে দল থেকে বহিষ্কার এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি তাঁর কাছ থেকে।

বুধবার দুপুরে ভাঙ্গা পৌরসভার দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে ও বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। এতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এলাকাবাসী আবারও মহাসড়ক অবরোধ করেন। রাত ৯টার দিকে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় প্রায় ২০ মিনিট ভাঙ্গা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের সময় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সজিব মাতুব্বর আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য একদিনের আল্টিমেটামও দেন তাঁরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কাপুড়িয়া সদরদি গ্রামের বাসিন্দা আশিক শেখ দাবি করেন, নিহত সুমনের সঙ্গে তিনিও ঘটনাস্থলে ছিলেন। তাঁর ভাষ্য, দুই গ্রামের যুবকদের মধ্যে হাতাহাতির একপর্যায়ে সজিব মাতুব্বর ঘটনাস্থলে এসে প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন সুমন শেখ।

বিক্ষোভ চলাকালে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্যা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বিক্ষুব্ধদের উদ্দেশে বলেন, ‘বহিষ্কারের নিয়ম রয়েছে। সে স্বেচ্ছাসেবক দল করে, তাকে বহিষ্কার করতে পারে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। আমাদের বিএনপির অভিভাবক এমপি (শহিদুল ইসলাম বাবুল) শুক্রবারে আসবেন এবং সকলকে নিয়ে বসবেন। তারপর বহিষ্কারের জন্য যা যা করা লাগে তাই আমরা করব এবং তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য সহযোগিতা করব।’

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মিঠু বলেন, বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে দেখেছেন, তবে তাঁদের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হবে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সজিব মাতুব্বরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দিপু বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তাঁরা শুনেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

এর আগে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জোবায়ের নাদিম জানিয়েছিলেন, সুমনের মুখের চোয়ালের দিকে গুলি সদৃশ একটি বস্তু ভেদ করে মাথার এক পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। তাঁর প্রাথমিক ধারণা, এটি শটগানের গুলি হতে পারে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলেও পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, পূর্ব শত্রুতার জেরে মঙ্গলবার রাতে ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদি ও হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এর আগে কাপুড়িয়া সদরদি গ্রামের তিন যুবককে তুলে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে সংঘর্ষের একপর্যায়ে কাপুড়িয়া সদরদি গ্রামের মিলন শেখ ওরফে মিলন বাবুর্চির ছেলে সুমন শেখ গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে। তাঁর মৃত্যু ঘিরেই এলাকায় বিক্ষোভ ও অবরোধের ঘটনা ঘটে।