জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “অভূতপূর্ব এ আন্দোলন, উদ্দীপ্ত এ আন্দোলন। আমি চীনের প্রাচীর দেখিনি, আমি আবু সাঈদের বুক দেখেছি। চীনের প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে কী করে গুলি খায়, সেই দৃশ্য আমি দেখেছি।”
গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে ১ জুলাইয়ের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ছাত্রদলের ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে রিজভী ছিলেন প্রধান অতিথি।
অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতি আমাদের প্রজ্বলিত করবে, প্রেরণায় উদ্দীপ্ত করবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, আবার কোনো নতুন সংগ্রামে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে। ছাত্রদল শুধু জুলাই-আগস্টে গণতন্ত্রের সংগ্রাম করেনি, তারা দীর্ঘ ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করেছে।” তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রিজভী।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “অভূতপূর্ব এ আন্দোলন, উদ্দীপ্ত এ আন্দোলন! আমি চীনের প্রাচীর দেখিনি, আমি আবু সাঈদের বুক দেখেছি। চীনের প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে কী করে গুলি খায়, সেই দৃশ্য আমি দেখেছি। আমি হিমালয় দেখিনি, আমি চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামকে হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে থেকে কী করে তপ্ত বুলেটকে নিজের বুকে বরণ করতে হয়, সেটি দেখেছি। আমি প্রশান্ত মহাসাগর দেখিনি, কিন্তু আহনাফের মায়ের চোখের জল দেখে প্রশান্ত মহাসাগরের কথা মনে পড়েছে। তাই আমাদের আলো প্রজ্বলিত করতে হবে। প্রতিদিন সব কটা জানালা আমাদের খুলে রাখতে হবে। শহীদেরা চুপি চুপি আসবেন, আমাদের স্মৃতিতে আমরা শহীদদের ধারণ করব। আমাদের মনের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের বিবেকহীন শব্দ জাগ্রত না হতে পারে, সেই তাড়না তাঁরা দেবেন। কোনো অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী শক্তির যাতে আর আগমন না ঘটতে পারে, তাই তাঁদের স্মৃতি একটি মাস বা দিনের জন্য নয়।”
প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, “ফ্যাসিস্ট পরাজিত হয়েছে বটে। কিন্তু তার ভগ্নাংশ, অবশিষ্টাংশ এখনো রয়েছে নানা জায়গায়। তারা দেশের টাকা চুরি করেছে, তারা পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভারের টাকা চুরি করেছে। ওই টাকা তো শেষ হয়ে যায়নি, এখনো আছে। তারা গ্রামগঞ্জ, তৃণমূল থেকে প্রতিটি জায়গায় সন্ত্রাস ও রক্তের হোলি খেলা খেলতে পারে। তার বিভিন্ন আলামত বিভিন্ন সময় দেখা যাচ্ছে। তাই জাগ্রত তরুণ ও ছাত্রসমাজকে আরো লড়াই-সংগ্রাম ও উদ্দীপ্ত পথচলা মিছিলের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”
এ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও মোমবাতি প্রজ্বালন করে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এতে অংশ নেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন।








