​বিশ্বকাপ ফুটবলের রাউন্ড অব-৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে পরাশক্তি ইংল্যান্ড। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পায়ে রাখলেও প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে মাঠ ছেড়েছে থ্রি লায়ন্সরা। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে বেনি সিপেঙ্গার করা একমাত্র ও ঐতিহাসিক গোল এবং কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি-এনজাউয়ের অবিশ্বাস্য কিছু সেভ ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। আফ্রিকার প্রতিনিধি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের জন্য এই গোলটি ছিল এক নতুন ইতিহাস, কারণ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এর আগে তারা কখনোই গোলের দেখা পায়নি। ​খেলার শুরু থেকেই দারুণ আত্মবিশ্বাসী ছিল ডিআর কঙ্গো। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে প্রথম সুযোগেই বাজিমাত করে তারা। ডান প্রান্ত দিয়ে অধিনায়ক শঁসেল এমবেম্বার নিখুঁত ক্রস বক্সে খুঁজে নেয় স্যামুয়েল মুতুসামিকে। তার বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব আলমেরিয়ায় খেলা স্ট্রাইকার বেনি সিপেঙ্গা। জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই তার প্রথম গোল। ঐতিহাসিক এই গোলের পর ম্যাচজুড়ে শুরু হয় ফাউল ও কার্ডের মহড়া। ১৯তম মিনিটে এনতানু এমবুকুর ওপর কঠোর ট্যাকল করায় হলুদ কার্ড দেখেন ইংলিশ মিডফিল্ডার জুদ বেলিংহ্যাম। অন্যদিকে ২৭তম মিনিটে দ্রুতগতির ইংলিশ পাল্টা আক্রমণ থামাতে কৌশলগত ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ডিআর কঙ্গোর নোয়া সাদিকি। ​গোল হজম করার পর ৫৮ শতাংশ বলের দখল নিয়ে কঙ্গোর ওপর আক্রমণের ঝড় তোলে হ্যারি কেইন-বেলিংহ্যামরা। ৩০তম মিনিটে ডেকলান রাইসের ক্রস থেকে বেলিংহ্যামের হেড সহজেই লুফে নেন কঙ্গোর গোলরক্ষক এমপাসি-নজাউ। ৩৫তম মিনিটে তো নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের শট প্রথমে আক্সেল তুয়ানজেবে ব্লক করার পর ফিরতি বলে নোয়া ও'রেইলির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ঠিক তার পরের মুহূর্তেই মার্কাস রাশফোর্ডের একটি শট কঙ্গোর ডিফেন্ডাররা গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে দেন। আক্রমণের ধারা বজায় রেখে ৪৩তম মিনিটে কঙ্গোও ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল, তবে অ্যারন ওয়ান-বিসাকার ক্রস থেকে নেওয়া ইয়োয়ানে উইসার শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ​প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে নাটকীয়তা আরও জমে ওঠে। ৪৪তম মিনিটে ইংল্যান্ডের পেনাল্টির জোরালো দাবির মুখে রেফারি ভিএআর (VAR) পরীক্ষা করেন। তবে ভিডিও রিপ্লে দেখে রেফারি তার আগের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকেন এবং স্পট-কিকের আবেদন নাকচ করে দেন। যোগ করা সময়েও আক্রমণের ধার বাড়ায় ইংল্যান্ড। ৪৫+২ মিনিটে ননি মাদুয়েকের ক্রস থেকে বেলিংহ্যামের হেড এবং ৪৫+৭ মিনিটে হ্যারি কেইনের নেওয়া চমৎকার ভলি অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করে কঙ্গোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক এমপাসি-নজাউ। গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের সাথে ড্র এবং উজবেকিস্তানকে হারিয়ে নকআউটে আসা কঙ্গো প্রথমার্ধের এই লিড ধরে রেখে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ড্রেসিংরুমে ফেরে। অন্যদিকে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে হলে ইংল্যান্ডকে কঙ্গোর এই দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙার নতুন কৌশল খুঁজতে হবে।