ভারী বর্ষণ, ভূমিধস ও বন্যার কারণে ভারতের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে পড়েছে। বৃহস্পতিবার একদিনেই বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। টানা বৃষ্টিতে বাড়িঘর ধসে পড়ছে, গাছ উপড়ে যাচ্ছে, সড়ক তলিয়ে যাচ্ছে এবং বহু অঞ্চলে স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

রাজধানী দিল্লিতেও ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব দিল্লির তুখমিরপুর এলাকায় ১৬০ মিলিমিটার এবং ময়ূর বিহারে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রবল বাতাসে বহু গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল বিভিন্ন এলাকা। সড়কে পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত দিল্লিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তরাখণ্ডে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। অলকানন্দা ও মন্দাকিনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভূমিধসের কারণে গঙ্গোত্রী জাতীয় মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চারধাম যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। একইভাবে হিমাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টির কারণে অন্তত ৭৫টি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

উত্তরপ্রদেশেও নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বজ্রপাত ও দেয়াল ধসের ঘটনায় সেখানে এক শিশুসহ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রুদ্রপ্রয়াগ, গাজিয়াবাদ, মিরাটসহ কয়েকটি জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

পশ্চিম ভারতের মহারাষ্ট্র ও গুজরাটেও টানা বৃষ্টির প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মুম্বাইয়ের কোলাবা ও সান্তাক্রুজ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৮০ থেকে ৯৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কারজাট-লোনাভলা ঘাট এলাকায় ভূমিধসের কারণে মুম্বাই, পুনে ও হায়দরাবাদগামী প্রায় ১৮টি ট্রেনের চলাচল বাতিল করেছে সেন্ট্রাল রেলওয়ে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুন থেকে এখন পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় অন্তত ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে গুজরাটের সুরাতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) ও দমকল কর্মীরা নৌকার সাহায্যে ছয় হাজারেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করেছেন।

দক্ষিণ ভারতের কেরালাতেও দুর্যোগ অব্যাহত রয়েছে। ওয়েনাদ জেলায় ভূমিধসে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকারী দল এখনো তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

The post ভারতে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার তাণ্ডব, একদিনেই নিহত অন্তত ১০ appeared first on ZoomBangla.