বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা দূর করতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বাড়াতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মো. মাহবুবুর রহমানের এক প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা জানান তিনি। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

আরও পড়ুন

মোট রপ্তানির ৯১ শতাংশই আসে প্রধান কয়েকটি পণ্য থেকে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ১৯৭২ সালে সই হয়, যা কিছুটা সংশোধন/ পরিমার্জনের পর ২০১৫ সালে নবায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ভারতের বাজারে তামাক ও মাদক জাতীয় ২৫টি পণ্য ছাড়া বাকি সব পণ্যে মুক্ত প্রবেশের মুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাচ্ছে।

তিনি বলেন, উভয় দেশের বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় অর্থাৎ পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক প্রতিযোগিতার লক্ষ্যে একটি কমপ্রিয়েন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সইয়ের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে বাংলাদেশ-ভারত শীর্ষ সম্মেলনে সিইপিএ নেগোসিয়েশন শুরুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আরও পড়ুন

বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা / অনলাইনে ‘অস্ত্র বিক্রি’, হোম ডেলিভারি দেওয়ার প্রলোভন

এসময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা দূর করার জন্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন মন্ত্রী।

বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, তবে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা বিদ্যমান রয়েছে। অশুল্ক বাধা দূর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগগুলো হলো- সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ভারতে রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখা। নিয়মিতভাবে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের এবং ওয়ার্কিং কমিটি পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী সময়ে ভারতে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা অব্যাহত রাখতে এবং বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক সুবিধার লক্ষ্যে সিইপিএ চুক্তি সইয়ের আলোচনা চলমান রয়েছে।

এমওএস/কেএসআর