ভারতে বর্ষাকাল প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় সময়। সবুজে মোড়া পাহাড়, ঝরনার উচ্ছ্বাস আর কুয়াশায় ঢাকা উপত্যকা পর্যটকদের টানে। তবে টানা ভারী বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা, সড়ক ধস ও জলাবদ্ধতার কারণে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া বিভাগও এসব এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকিপূর্ণ ছয়টি পর্যটন গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে—

লোনাভালা ও খান্ডালা, মহারাষ্ট্র

টানা ভারী বৃষ্টিতে পশ্চিমঘাট অঞ্চলে একাধিক ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে কারজাত-লোনাভালা সড়ক এবং মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তায় ধস, পাথর ও কাদামাটি জমে যাওয়ায় ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মুম্বাই, থানে ও রায়গড় জেলায় লাল সতর্কতা জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।

তির্থান ভ্যালি ও চাম্বা, হিমাচল প্রদেশ

প্রবল বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণে লারজি-সাইনজ সড়ক এবং চাম্বা-তিসা সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাথর ও কাদামাটি ধসে পড়ায় পাহাড়ি এসব এলাকায় ট্রেকিং বা বেড়াতে যাওয়া আপাতত নিরাপদ নয়।

গঙ্গোত্রী, উত্তরাখণ্ড

চারধাম যাত্রার অন্যতম তীর্থস্থান গঙ্গোত্রী যাওয়ার মহাসড়কে একাধিক ভূমিধস হয়েছে। পাহাড়ি ঢাল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় এবং নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গঙ্গোত্রী সফর স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দোদা ও কিস্তোয়ার, জম্মু ও কাশ্মীর

টানা বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে দোদা ও কিস্তোয়ার জেলার সংযোগকারী সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

ধেমাজি ও আসাম-অরুণাচল প্রদেশের বন্যাকবলিত এলাকা

আসামের ধেমাজি জেলায় বন্যা ও নদীভাঙনে রেল অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম এখনো বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। একই সময়ে অরুণাচল প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এসব এলাকায় ভ্রমণ আপাতত স্থগিত রাখাই নিরাপদ।

ওয়েনাড়, কেরালা

কেরালার জনপ্রিয় পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্র ওয়েনাড়েও নতুন করে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। মীনাক্ষী ও চুরালমালা এলাকার কাছে ভারী বৃষ্টির কারণে উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়েছে। জেলার বেশিরভাগ এলাকা চলাচলের উপযোগী থাকলেও ভূমিধসপ্রবণ এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

কর্তৃপক্ষের পরামর্শ, আবহাওয়ার পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এসব অঞ্চলে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএসএম