ভারতে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের অর্থের বিনিময়ে সরকারি নথি পাইয়ে দেওয়া ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে পাঁচ রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। মূলত পশ্চিমবঙ্গ, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের ১৩ জায়গায় বৃহস্পতিবার অভিযান পরিচালনা করে ইডি। 

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর চব্বিশ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অভিযান চালানো হয়। মূলত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের ভারতীয় নথি তৈরি করে দেওয়ার বিনিময়ে কোটি কোটি টাকার লেনদেন! তার পিছনে থাকা পান্ডাদের খোঁজে এবার ময়দানে নামে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। 

২০২৩ সালে উত্তর প্রদেশে একটি মামলা হয়েছিল। লখনউতে ৭৪ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছিল সেই সময়। অভিযোগ ওঠে, বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাদের আশ্রয় দেয় ও নথি বানিয়ে দেয়। পরে উত্তর ও পশ্চিম ভারতে তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে এই মামলায় ইডি তদন্তের দায়িত্ব নেয়। 

এর মধ্যেই সম্প্রতি আরেকটি পৃথক মানবপাচার সংক্রান্ত মামলার তদন্ত চলাকালে উত্তর প্রদেশ পুলিশের এটিএস এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি অনুপ্রবেশকারী এবং অর্থের বিনিময়ে ভারতীয় নথি তিনি জোগাড় করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত হয়ে তিনি ভারতে অনুপ্রবেশ করেন এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকেই তিনি অর্থের বিনিময়ে ভারতীয় নথি জোগাড় করেন। 

২০২৩ সালে গ্রেপ্তার ৭৪ জন বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা মামলার সঙ্গে উত্তর প্রদেশ এটিএস এর নতুন তদন্তে একাধিক লিংক পাওয়া যাচ্ছে। এরপরেই উত্তর প্রদেশ পুলিশের এটিএসের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে এই নেটওয়ার্ককে সমূলে উৎখাত করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের পাঁচ রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

ইডি সূত্রে জানা গেছে, তদন্তকারীদের স্ক্যানারে রয়েছে রাজ্যের সেই সব এলাকা, যেগুলো বর্তমানে জাল নথি তৈরির আখড়া হিসেবে কাজ করছে। এই চক্রটি মূলত মোটা টাকার বিনিময়ে সীমান্ত পেরিয়ে আসা অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, শ্রম কার্ডের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেয়। সেই সব জাল নথি ব্যবহার করেই দালালদের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে কর্নাটক, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে অনায়াসে পৌঁছে যাচ্ছে।

এর আগে ইউপি পুলিশ আদালতেও জানিয়েছে, শ্রমিক সরবরাহের আড়ালে মূলত দালালেরাই অনুপ্রবেশকারীদের জাল নথি দিয়ে গোটা দেশে পাচার করছে। এই কাজে সহযোগিতা করেছে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, হয়েছে কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন।

তবে বৃহস্পতিবার তদন্তে কী কী উঠে এসেছে বা কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কী না, সেই বিষয়ে ইডির তরফে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।