গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে চাঁদপুরে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, ফলে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের নিচু এলাকায় বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলাটিতে ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত ও অকার্যকর হওয়ায় প্রতি বর্ষায় তাদের এই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা যায়। শহরের বিষ্ণুদী মাদ্রাসা রোড, মিশন রোড-ওয়ারলেস সড়ক, নাজিরপাড়া, ব্যাংক কলোনি, রহমতপুর কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুপানি থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও তারও কাছাকাছি উচ্চতার পানি জমে যায়। এতে পথচারীদের চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে এবং অনেক যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করতে বাধ্য হয়।

ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত চাঁদপুর, পানিবন্দি নিচু এলাকা

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিচু এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘ সময় বৃষ্টির পানি জমে থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের চলাচলেও দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপর্যাপ্ত ও অকার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে অল্প সময়ের ভারী বর্ষণেই শহরের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মাদ্রাসা রোড এলাকার বাসিন্দা নাছির হোসেন বলেন, চাঁদপুর শহরের মধ্যে আমাদের এলাকাটি সবচেয়ে নিচু। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। আর ভারী বৃষ্টি হলে হাঁটুপানি হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক শাহ মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি জানান, আগামী আরও দুই-এক দিন থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

শরীফুল ইসলাম/এসজেডএইচ/জেআইএম