ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড় থেকে ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে ২০-২৫ বছর বয়সী একটি মা হাতি। ওপর থেকে নিচে গড়িয়ে পড়ার সময় হাতিটি বিভিন্ন গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে হাতিটির পেছনের পা দুটি ভেঙে যায়। কেটে যায় পেটের কিছু অংশও। বন বিভাগের চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতিটিকে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

আজ শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যাংপাড়ার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই পাহাড়ে এশিয়ান জাতের অন্তত ২৩টি হাতির বিচরণ রয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পাহাড়ের চূড়ায় গাছ ও লতাপাতা খাওয়ার সময় সম্ভবত বৃষ্টির কারণে নরম মাটি ধসে হাতিটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে গড়িয়ে পড়ে। এতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে হাতির পেট কেটে গেছে ও পা ভেঙে গেছে। এ কারণে হাতিটি হাঁটতে পারছে না। হাতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুট, উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট। হাতির বয়স ২০-২৫ বছর হতে পারে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, আহত হাতিটিকে প্রাণে বাঁচাতে চিকিৎসা দিচ্ছেন টেকনাফ উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। হাতিটিকে প্রায় সময় নেটং পাহাড় ও পাশের দমদমিয়া পাহাড়ি এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। আজ দুপুরে হাতিটি নেটং পাহাড়ে আসে। সম্ভবত সেখানে চলাফেরার সময় পা পিছলে পাহাড়চূড়া থেকে নিচে পড়ে যায়।

ঘটনাস্থল ঘুরে এসে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড় থেকে পড়ে হাতিটি গুরুতর আহত হয়েছে, এখন মাটিতে শুয়ে আছে, সামান্য নড়াচড়া করতে পারলেও উঠে দাঁড়াতে পারছে না। পেছনের দুটি পা আঘাতপ্রাপ্ত, পেটেও কাটা দাগ আছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় আহত হাতিকে অন্যত্র সরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। উন্নত চিকিৎসার জন্য চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি দল টেকনাফে আনা হচ্ছে।