সুন্দরের অনেক স্নিগ্ধরূপ আছে। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্স যে ঘরানার আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে, তার সেরা উপমা হতে পারে ‘ভয়ংকর সুন্দর’। কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে অলআউট ফুটবলে প্রতিপক্ষকে যেন দুমড়ে-মুচড়ে দিচ্ছে দিদিয়ের দেশমের দল! অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটে চলা ফ্রান্সের সামনে দাঁড়াতে পারছে না কেউ। গ্রুপপর্বে এমবাপ্পে, দেম্বেলেদের রুদ্ররূপ দেখেছিল সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়ে। এবার শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে ফরাসি ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল সুইডেন। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে শেষ হওয়া ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে ফ্রান্স। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসাবে টানা পাঁচ ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোলের অনন্য কীর্তি গড়ল দুবারের চ্যাম্পিয়নরা। এক ম্যাচ পর আবার জোড়া গোলের উচ্ছ্বাসে ভেসে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে নতুন রোমাঞ্চ যোগ করলেন রেকর্ডের বরপুত্র এমবাপ্পে।
চার ম্যাচে ছয় গোল নিয়ে এমবাপ্পে এখন লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা। একটি কীর্তিতে আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে ছুঁয়ে আরেকটিতে মেসির ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ২৭ বছর বয়সি ফ্রান্স অধিনায়ক। মিরোস্লাভ ক্লোসাকে (১৬) ছাড়িয়ে এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেছেন এমবাপ্পে (১৮)। একটি গোল বেশি নিয়ে চূড়ায় মেসি (১৯)। এছাড়া দুই ব্রাজিলীয় গ্রেট লিওনিদাস (৮) ও রোনালদোকে (৮) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এমবাপ্পে (১০)। ছয় গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টের সৌজন্যে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও আপাতত এগিয়ে এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। তবে সুইডেনকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এমবাপ্পে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, গোল্ডেন বুট নয়, তার চাই আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি।
ফুটবলযোদ্ধারা অবশ্য এমবাপ্পের চেয়েও বেশি মজেছেন মাইকেল ওলিসের জাদুকরী পারফরম্যান্সে। ২৪ বছর বয়সি এই উইঙ্গার খেলা তৈরির পাশাপাশি বানিয়ে দিয়েছেন দুটি গোল। এমবাপ্পের সঙ্গে তার অবিশ্বাস্য বোঝাপড়া প্রতিপক্ষের জন্য বিভীষিকা হয়ে উঠেছে। এবারের বিশ্বকাপে ওলিসের অ্যাসিস্ট হলো পাঁচটি, যা ১৯৯৪ সালের পর এক আসরে সর্বোচ্চ। ৩৬ মিনিটে দুর্দান্ত বাইসাইকেল কিক পোস্টে প্রতিহত না হলে আসরের সবচেয়ে দর্শনীয় গোলটি হতো ওলিসের। এমবাপ্পেও একবার পোস্ট কাঁপিয়েছেন। তার আরেকটি গোল বাতিল হয় অফসাইডে। এছাড়া সুইডিশ গোল কিপার ঠেকিয়েছেন নয়টি শট। ফলে তিন গোলে হেরেও নিজেদের ভাগ্যবান ভাবতে পারে সুইডেন!
দুবার হতাশ হওয়ার পর ৪৫ মিনিটে দেম্বেলের পাস থেকে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। ৫৩ মিনিটে ওলিসের সহায়তায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বার্কোলা। ৭৪ মিনিটে এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলটিও বানিয়ে দেন ওলিসে। তিনটি গোলের পরই মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসা কোচ দিদিয়ের দেশমকে জড়িয়ে ধরে উদযাপন করেন এমবাপ্পেরা। ফরাসি সৌরভের মৌতাতে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ সুইডেনের কোচ গ্রাহাম পটারের উপলব্ধি, ‘এই ফ্রান্সকে হারাতে নিখুঁত ফুটবলও যথেষ্ট নয়।’ শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে।








