ঝালকাঠির ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে ঘুরতে এসে খালে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হওয়া সানি হাওলাদার (১৪) নামে এক কিশোরের মরদেহ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে খালে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয় ওই কিশোর। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে স্থানীয় ডুবুরিদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সানি হাওলাদার ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ২ নম্বর মঠবাড়িয়া ইউনিয়নের চর হাইলাকাঠি এলাকার সোহেল হাওলাদারের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে স্বজনদের সঙ্গে ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে ঘুরতে যায় সানি হাওলাদার। দুপুরে খাবার শেষে খালের পাশে থাকা একটি আমগাছে উঠে পানিতে ঝাঁপ দেয় সানি। এরপর তাকে আর দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।

খবর পেয়ে ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রলার নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। তবে জেলায় নিজস্ব ডুবুরি দল না থাকায় উদ্ধার কার্যক্রমে কিছুটা জটিলতা দেখা দেয়।

নিহতের চাচা সৌরভ হোসেন রনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পৌঁছানোর আগেই আমরা স্থানীয়ভাবে ডুবুরির ব্যবস্থা করি। পরে তাদের সহায়তায় সানিকে যে স্থান থেকে খালে ঝাঁপ দিয়েছিল, ঠিক সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয়।’

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাব-অফিসার মাহাবুব আলম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। বরিশাল ও পটুয়াখালীর ডুবুরি দলের সহায়তা চাওয়া হলেও তারা অন্যত্র উদ্ধার অভিযানে ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে আসতে পারেনি। পরে স্থানীয় ডুবুরিদের সহায়তায় কিশোরটিকে উদ্ধার করে দ্রুত ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মফিজুর রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সানির মৃত্যু হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।