জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের সেবক হবেন এমন ইচ্ছা থেকে ইউপি নির্বাচনে মানিকগঞ্জ জেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তারা মানুষের কাছে দোয়া চাচ্ছেন। দোয়া চেয়ে পোস্টার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডও লাগাচ্ছেন। তবে এখনো কাউকে প্রার্থী হিসাবে চূড়ান্ত করেনি বিএনপি। দলটির প্রার্থী হতে আগ্রহী নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে কোথাও কোথাও জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা পলাতক থাকলেও নির্বাচনি মাঠের হাল ছাড়েননি। তাদের অনেকেই নীরবে নির্বাচনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

মানিকগঞ্জের ৬৫টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে রয়েছে বিসিক শিল্প নগরীসহ বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এখানে প্রায় ২৮ হাজার ভোটার রয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী এ ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ করেছেন সরকার। গত ১৫ বছর ধরে এই ইউপিতে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমান সরকার স্থানীয় নির্বাচনে কথা ঘোষণা দেওয়ার পর জাগীর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী প্রায় এক ডজন নেতা। তাদের মধ্যে বিএনপির চারজন ও জামায়াতের একজন রয়েছেন। এছাড়া হেফাজতে ইসলাম থেকে একজন এবং স্বতন্ত্র হিসাবে রয়েছেন সাতজন সম্ভাব্য প্রার্থী। ইতোমধ্যে তাদের অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পোস্টার, ফেস্টুন লাগিয়েছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজেদের জানান দিচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, জাগীর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে রয়েছেন ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল শিকদার, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি জিয়াউর রহমান, জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক ও জাগীর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন। এছাড়া জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন সালাউদ্দিন ও হেফাজত ইসলামের রমজান মাহমুদ। তাছাড়া স্বতন্ত্র হিসাবে মাঠে রয়েছেন ফেরদৌস আলী, মো. শাহীনুর রহমান শাহীন, কৃষিবিদ উফাজ উদ্দিন আহমেদ, মিজানুর রহমান শ্যামল প্রমুখ। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে প্রার্থী হতে পারেন জাগীর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন।

সাধারণ ভোটারদের দাবি-সৎ, যোগ্য এবং যিনি এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করবেন, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ নাগরিক সুবিধায় ভূমিকা রাখবেন, তাকে তারা ভোট দেবেন।

মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির মুখপাত্র নুরতাজ আলম বাহার যুগান্তরকে বলেন, সমাজে যে নেতার সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং ব্যক্তিত্ব ভালো, তিনিই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পাবেন। মানিকগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছি। তবে পরবর্তীতে কিছু প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে।