জিম্বাবুয়ে সফরে একমাত্র টেস্ট হারের পর ওয়ানডে সিরিজও হেরেছে বাংলাদেশ। তবে শেষ ওয়ানডে জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে তারা। আগামীকাল বুলাওয়েতে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ।
টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারের হতাশা পেছনে ফেলে এবার টি-টোয়েন্টিতে নতুন শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় মনে করেন, ভিন্ন ফরম্যাট ও ভিন্ন কন্ডিশনে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে হৃদয় বলেন, ‘এটা দুই দিকের খেলা, হয় আপনি হারবেন, নয়তো জিতবেন। তবে এটা ভিন্ন ফরম্যাট এবং ভিন্ন ভেন্যু। আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে আশা করি ভালো ফল পাব। আগেও বলেছি, কন্ডিশন এবং ভেন্যু দুটোই আলাদা। নির্দিষ্ট দিনে আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, সেটা আমাদের জন্য ভালো হবে। আমরা জানি কোথায় ভুল করেছি। আশা করি সেই ভুলগুলো কমিয়ে এই ফরম্যাটে মনোযোগ দিতে পারব।’
জিম্বাবুয়েকে তাদের নিজেদের মাঠে শক্ত প্রতিপক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হোম কন্ডিশনে জিম্বাবুয়ে ভালো দল। এখানে কিছু চ্যালেঞ্জ অবশ্যই আছে। তবে আমরা নিজেদের শক্তির জায়গাগুলো জানি। ভুলগুলো থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব। আমাদের শক্তিশালী দল আছে। গত কয়েকটি সিরিজে আমরা সত্যিই ভালো ক্রিকেট খেলেছি। সেই ধারাটা ধরে রাখতে পারলে অবশ্যই ফল আসবে। আমরা চেষ্টা করব সেই মোমেন্টাম টি-টোয়েন্টিতেও ধরে রাখতে। এটা ছোট ফরম্যাট, একেবারেই ভিন্ন ধরনের খেলা। আশা করি ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারব।’
অধিনায়ক হিসেবে অতিরিক্ত চাপ অনুভব করছেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে হৃদয় বলেন, ‘সব জায়গাতেই চাপ থাকে। একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং সেটি কীভাবে সামলাতে হয়, সেটা জানতে হয়। এটা টি-টোয়েন্টির খেলা। নির্দিষ্ট দিনে যদি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে ফল আমাদের পক্ষেই আসবে।’
নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্য নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। হৃদয় বলেন, ‘অবশ্যই টার্গেট থাকবে টিমকে জেতানো। আমি টিমকে আমার দিক থেকে যতটুকু পারব সার্ভ করার চেষ্টা করব। (অধিনায়কত্ব) অবশ্যই এটা একটা গর্বের বিষয়, তবে একই সঙ্গে দিনশেষে রেজাল্টটাই বেশি জরুরি। টিম হিসেবে আমরা চাই যেন আমরা জিততে পারি।’
টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনার চেয়ে ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোতেই আগ্রহী হৃদয়। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, তবে এটার একটা প্রসেস আছে। ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করাটাই সব থেকে ভালো অপশন হবে। আমার সামনে আগামীকাল যে ম্যাচটা আছে, এই ম্যাচটা নিয়েই ফোকাস করতে চাই। সেই নির্দিষ্ট দিনে যদি ভালো করতে পারি, ইনশাআল্লাহ (জয় আসবে)।’
বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনের পার্থক্য নিয়েও কথা বলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক, ‘কন্ডিশনের পার্থক্য অবশ্যই অনেক বড়। বাংলাদেশ আর জিম্বাবুয়ের উইকেট ও আবহাওয়ার মধ্যে অনেক তফাত। এখানে এখন বেশ ঠান্ডা, উইকেটও আলাদা ধরনের। প্রতিপক্ষও ভিন্ন, সব মিলিয়ে পরিস্থিতিটা একেবারেই অন্য রকম। তবে একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এসব কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
এসকেডি/এমএমআর








