১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে ওঠার যে স্বপ্ন বুনছে ইংল্যান্ড, সেই স্বপ্ন পূরণে বড় বাধা আর্জেন্টিনা। গতবারের চ্যাম্পিয়ন মেসিদের হটিয়ে ইংল্যান্ডকে ফাইনালমঞ্চে যেতে হলে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব কাঁধে নিতে হবে জুড বেলিংহ্যামকে। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারেন তিনি।

মাত্র ২৩ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডকে শুধু নিয়ন্ত্রণই করছেন না, পুরো দলের এনার্জির উৎস হয়েও উঠেছেন। কেবল ইংলিশরাই নয়, বিশ্বের অনেক ফুটবলপ্রেমী তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ।

বেলিংহ্যামের দক্ষতা অসাধারণ। তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার। শক্তিশালী ট্যাকলিং, দুর্দান্ত ড্রিবলিং, সঠিক পাসিং এবং বক্সে লেট রান করে গোল করার ক্ষমতা তার মধ্যে মিলেমিশে একাকার।

তার ফিজিক্যালিটি, স্ট্যামিনা ও গেম রিডিং প্রতিপক্ষের জন্য মাথাব্যথার কারণ। এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ম্যাচগুলোতে যা দেখা গেছে স্পষ্ট।

বেলিংহ্যাম রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। এখন জাতীয় দলের হয়ে ইংল্যান্ডকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘ বিরতির পর একটা স্বপ্ন পূরণের দিকে।

এই বিশ্বকাপে বেলিংহ্যামের পারফরম্যান্স দুর্দান্ত। গ্রুপ পর্ব থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত তিনি ৬ গোল করেছেন। এর মধ্যে জোড়া গোল আছে রাউন্ড অব সিক্সটিনে মেক্সিকোর বিপক্ষে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে।

বেলিংহ্যামের ড্রিবলিং এবং ডুয়েল জয়ের সংখ্যা টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা। টমাস টুখেলের কৌশলে তিনি অনেকটাই ফ্রি রোল পেয়ে মিডফিল্ড থেকে অ্যাটাকে উঠে আসেন। ওপরে হ্যারি কেইনকে বল যোগান দেওয়া এবং রক্ষণে সহায়তার কাজটি সমানভাবে করে যাচ্ছেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

বেলিংহ্যামের সাথে ডেকলান রাইসের অসাধারণ জুটি ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। এই জোনে আর্জেন্টিনা ভুগতে পারে।

ইংল্যান্ডের কোচ টুখেলও মনে করেন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালে বেলিংহ্যামের ভূমিকা হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো ডি পলের সমন্বয়ে আর্জেন্টিনার কম্প্যাক্ট মিডফিল্ড এবং লিওনেল মেসির ম্যাজিকের বিরুদ্ধে মূল লড়াইয়ে বেলিংহ্যামকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।

কোচ টুখেল সম্ভবত তাকে মাঝমাঠে স্বাধীনতা দেবেন, যাতে তিনি মেসিকে মার্ক করা এবং অ্যাটাকে যোগ দেওয়া দুটোই করতে পারেন।বেলিংহ্যাম যদি সেরা ফর্মে থাকেন, তাহলে ইংল্যান্ডের ১৯৬৬ সালের পর ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।

আরআই/এমএমআর