বিশ্বকাপের সেমিফাইনালকে ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। বাংলাদেশ সময় আগামী বুধবার দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াইয়ের আগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ম্যাচ-পূর্ব বিভিন্ন মন্তব্য।
এবার সেই আলোচনার অংশ নিয়েছেন ইংল্যান্ড ফুটবলের কিংবদন্তি ওয়েন রুনি। আর্জেন্টিনার কৌশলগত বিন্যাস নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে তিনি লিওনেল স্কালোনির দলের একটি দুর্বল দিক তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসির রক্ষণাত্মক ভূমিকা নিয়ে।
আর্জেন্টিনার খেলার ধরন বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, বলের দখল না থাকলে ইন্টার মিয়ামির তারকা লিওনেল মেসি উল্টো নিজের সতীর্থদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারেন।
ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ট্রিবিউনা ডটকম জানিয়েছে, বিবিসি স্পোর্ট-এ প্রকাশিত এবং পরে এনডিটিভি স্পোর্টস ও গালফ নিউজ-এ উদ্ধৃত মন্তব্যে রুনি আর্জেন্টিনা অধিনায়কের পরিশ্রমের মাত্রা নিয়ে স্পষ্ট সমালোচনা করেন।
সাবেক এই ফরোয়ার্ড মনে করেন, রক্ষণভাবে মেসির কম অবদান রাখাই আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় দুর্বলতা, আর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে চাইলে ইংল্যান্ডের উচিত এই দিকটিকেই কাজে লাগানো। ‘মেসি আর্জেন্টিনার জন্য রক্ষণে একটি দুর্বলতা হতে পারেন,’ দ্বিধাহীনভাবেই বলেন রুনি।
রুনির যুক্তি হলো, মেসির সীমিত রক্ষণাত্মক অংশগ্রহণের কারণে আর্জেন্টিনার মধ্যমাঠের খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত শারীরিক চাপ পড়ে।
ইংল্যান্ডের এই কিংবদন্তির মতে, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক পেছনে নেমে রক্ষণে সহায়তা করেন না, ফলে রদ্রিগো ডি পল ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো খেলোয়াড়দের দলের ভারসাম্য ধরে রাখতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়।
তবে একই সঙ্গে মেসির ম্যাচ নির্ধারণী প্রভাবের কথাও স্বীকার করেছেন রুনি। তার মতে, রক্ষণে কিছুটা ফাঁক রেখে দিলেও আক্রমণভাগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মেসি এখনো অসাধারণ, আর মুহূর্তের মধ্যেই প্রতিপক্ষের পুরো কৌশল ভেঙে দিতে সক্ষম।
‘মেসির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সে হাজির হয় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়,’ ব্যাখ্যা করেন রুনি।
তার মতে, মেসিকে থামানোর উপায় কোনো একজন ডিফেন্ডারকে সারাক্ষণ তার পেছনে লাগিয়ে রাখা নয়। বরং পুরো ম্যাচজুড়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে সর্বোচ্চ মনোযোগ ও পারস্পরিক সমন্বয় বজায় রাখতে হবে।
রুনির এই মন্তব্য আর্জেন্টিনা শিবিরেও নজর এড়ায়নি। দক্ষিণ আমেরিকার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস ও ইনফোবায়ে জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলা এবং আর্জেন্টিনার দুর্বল এলাকাগুলো আরও সুরক্ষিত করতে কৌশলগত কিছু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছে লিওনেল স্কালোনির কোচিং স্টাফ।
এদিকে গোল এবং বিবিসি স্পোর্টসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, আটলান্টার এই সেমিফাইনাল হবে এক সত্যিকারের কৌশলগত লড়াই।
আরএএইচইউএল/এমএমআর








