চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় সংগঠনটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এনসিটি ও সিসিটি বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়া হলে তাদের পক্ষ থেকে সারা দেশে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারে ক্রমেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি শাহ আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অস্তিত্বের বিষয়। বন্দর রক্ষা মানে বাংলাদেশ রক্ষা করা। এই বন্দর এসএসএ পোর্টকে দিতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহণ উপদেষ্টাও বন্দর দিতে চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আপনি কম্প্রোমাইজ করবেন না। বন্দর আমাদের জাতির অস্তিত্ব। বন্দর দিতে চাইলে, সারা দেশে প্রতিরোধ শুরু হবে।
শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) চট্টগ্রামের সভাপতি তপন দত্ত বলেন, ১৯৯৭ সালে বন্দর এসএসএ নামে একটি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেটা দেশের মানুষ ও শ্রমিকরা বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন আবার বন্দর দিয়ে দিতে হবে বলে একপক্ষ স্লোগান দিচ্ছে। ৪০ বছর যেমন ঠেকিয়েছি; এবারও ঠেকাব।
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক দেলোয়ার মজুমদার। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন-সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এসকে খোদা তোতন, স্কপ চট্টগ্রামের যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার কামাল খান প্রমুখ।








