বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে। ঢাকা থেকে আনা নতুন পাওয়ার ট্রান্সফরমার স্থাপন শেষে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাব-স্টেশনটি থেকে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। ফলে পাঁচদিন পর আলোর মুখ দেখে স্বস্তি ফিরেছে এলাকার ২২ হাজার হাজার গ্রাহকের মধ্যে।
গত সোমবার রাতে তীব্র ঝড় ও বজ্রপাতে আদিতমারী-২ (হাজীগঞ্জ) সাব-স্টেশনের ১০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রধান ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যায়। এর ফলে আদিতমারী ও কালীগঞ্জের কমলাবাড়ী, পলাশী, ভেলাবাড়ী, গোড়ল, চলবলা ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
আরো পড়ুন: চার দিন ধরে বিদ্যুৎহীন লালমনিরহাটের ৫০ হাজার মানুষ
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ওই এলাকাগুলোতে তীব্র খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছিল। সেচ দিতে না পারায় কৃষিজমি শুকিয়ে যাচ্ছিল। তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়েন, ব্যাহত হয় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা। ফ্রিজে রাখা সংরক্ষিত খাবার ও মালামাল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুৎহীনতায় গোটা এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছিল।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা থেকে আসা নতুন ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িক চালু করা হলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই কারিগরি ত্রুটির কারণে তা আবার বিকল হয়ে পড়ে। ফলে নতুন করে আবারো চরম ক্ষোভ ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরবর্তীতে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম এবং রংপুর থেকে আসা পল্লী বিদ্যুতের বিভিন্ন মেকানিক্যাল টিম ও প্রকৌশলীরা নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর ত্রুটি সারিয়ে রাত সাড়ে ১০টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করেন।
উপজেলার তালুক দুলালী এলাকার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “প্রায় পাঁচদিন পর আমরা বিদ্যুৎ পেলাম। বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের জীবন ও কাজকর্ম প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল। এখন বিদ্যুৎ আসায় দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিক কার্যক্রম আবার শুরু করা যাবে।”
আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ বলেন, “বজ্রপাতে ১০ এমভিএ ট্রান্সফরমারটি বিকল হওয়ায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ পাচ্ছিলেন না। ঢাকা থেকে নতুন ট্রান্সফরমার এনে প্রতিস্থাপন করে এবং উদ্ভূত কারিগরি ত্রুটি দ্রুততম সময়ে মেরামত করে রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা হয়েছে।”
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখা হয়েছিল। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যুৎ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে দ্রুততম সময়ে বিদ্যুৎ সচল করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।








