সম্প্রতি রাজেন্দ্রনাথ ওঁরাও নামের এক আদিবাসীর জমি দখলে নেন গোগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আবুল বাসার ওরফে হেনা মাস্টার ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় ১ জুলাই রাজেন্দ্রনাথ ওঁরাও গোদাগাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর হেনা মাস্টার ও তার সহযোগীরা রাজেন্দ্রনাথকে ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে তুলে নিয়ে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পেটায়। সেই সঙ্গে আবার কোথাও অভিযোগ করা হলে শুধু এলাকাছাড়া নয়, তাকে দেশছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু রাজেন্দ্রনাথ ছাড়া পেয়ে গোদাগাড়ী থানায় হেনা মাস্টার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে জমি দখল, অপহরণ করে নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের আরেকটি অভিযোগ দিয়েছেন।

রাজেন্দ্রনাথ অভিযোগে বলেন, পৈতৃক সূত্রে আমি সাকুড়া মৌজার ১৩১ শতক জমির মালিক। এলাকার কিছু লোক দাবি করছেন যে, আমার বাবা তাদের কাছে জমি বিক্রি করে গেছেন। তারা খারিজ করে নিয়েছেন। আমি জানতে পেরে খারিজ বাতিলের জন্য সহকারী কমিশনার ভূমি (এসি ল্যান্ড) অফিসে আপিল মামলা করেছি। আপিলের রায় না হওয়া পর্যন্ত জমির বৈধ মালিক আমি। এতদিন আমি নিজের দখলে রেখে জমি আবাদ করেছি। এবারও জমিতে চাষ দিয়েছি। এখন হেনা মাস্টারের সহযোগিতায় মাইনুলসহ কিছু লোক জমি দখলে নিয়েছেন। আমি থানায় অভিযোগ করায় আমাকে তুলে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হচ্ছে। আমি ভয়ে বাড়ির বাইরে যেতে পারছি না।

ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার হেনা মাস্টার বলেন, রাজেন্দ্রের বাবা গোবিন্দ এই জমি ইয়াসিন নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছেন। ইয়াসিন বিক্রি করেন মাইনুল ও তার ভাইদের কাছে। খাজনা খারিজ মাইনুলদের নামেই চলছে। এই জমি নিয়ে আমি একাধিকবার সালিশ করেছি। সালিশে সিদ্ধান্ত হয়েছিল খারিজ বাতিল মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত কেউ জমিতে যাবে না। কিন্তু রাজেন্দ্র জমিতে চাষ দিয়েছেন। পরে মাইনুলরাও চাষ দিয়েছেন। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আমি রাজেন্দ্রকে ডেকে কিছু কথা বলেছিলাম। এতেই সে আমাকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দিয়েছে থানায়। রাজেন্দ্রকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবুল বাসার হেনা মাস্টার গোগ্রাম স্কুলের সহকারী শিক্ষক ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তবে ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা আরও জানান, হেনা মাস্টার ২০১৮ সালে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর পক্ষে নৌকায় ভোট চেয়েছেন। তার সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে আওয়ামী লীগ আমলে এলাকায় জমি ও পুকুর দখল করেছেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে হেনা মাস্টার বিএনপির পরিচয়ে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড শুরু করেন। আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর একটিতে হেনা মাস্টারকেও আসামি করা হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা তদন্তাধীন রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগ হেনা মাস্টার অস্বীকার করেছেন।

আদিবাসী রাজেন্দ্রনাথ ওঁরাওয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের আলোকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।