রাজশাহীতে রিকশাচালক গোলাম হোসেন (৪০) হত্যা মামলায় প্রধান দুই আসামিকে (দুজনই বিএনপির নেতা) অব্যাহতির সুপারিশ দেওয়া হয়েছে আদালতে। মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী পরিবানু বেগম ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শীকে সাক্ষী হিসাবে হাজির করতে না পারায় এটা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, একটা জলজ্যান্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত আসামিদের অব্যাহতি দেওয়া আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
ওই দুই আসামি হলেন শাহ মখদুম থানা বিএনপির আহ্বায়ক সুমন সরদার ও চন্দ্রিমা থানা বিএনপির আহ্বায়ক ফাইজুল হক ফাহি ওরফে ফাই। তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (এ) ধারায় অব্যাহতির সুপারিশ দিয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে আদালতে। বিএনপি সরকারের একজন মন্ত্রীও পুলিশের কাছে লিখিত সুপারিশ দিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
২০২৫ সালের ৭ মার্চ রাজশাহীর মধ্যশহর দড়িখড়বোনা রেলগেট এলাকায় বিএনপির সশস্ত্র দুই গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গোলাম নিহত হন। গোলামের বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার শিবপুর ফুলপাড়া গ্রামে। নগরীর দড়িখড়বোনা এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন।
ওই ঘটনার পর ১৩ মার্চ আরএমপির বোয়ালিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন পরিবানু। মামলায় ওই দুই আসামি ছাড়াও ফাইয়ের ছেলে রনি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক, মহানগর মহিলা দলের সহক্রীড়া সম্পাদক লাভলী খাতুনের স্বামী সোহেল রানা, লাভলীর ভাই মো. নাঈমসহ ২০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। আসামিদের অধিকাংশই গত ১৫ মাস প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতারের চেষ্টা করেনি।
গত ২৭ জুন সকালে বাদী পরিবানুর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, স্বামী হত্যার বিচার তিনি চান না। কারণ যারা তার স্বামীকে হত্যা করেছেন তারা প্রভাবশালী। ভয়ে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যান।
পরিবানু জানান, ’গ্রামে যাওয়ার পর মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ তাকে তার চেম্বারে দেখা করার জন্য বলেন। দেখা করলে জানতে চান, মামলাটি আমি চালাতে চাই কিনা। আমি জানিয়ে দিই মামলাটি চালাতে চাই না। এ সময় বিএনপি নেতা মামুন তাকে কিছু টাকা দেন। একটা কাগজে তার সই নেওয়া হয়। এরপর থানায় গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আমিনুল ইসলামকেও মামলা চালাতে চাই না বলে জানাই।’
বিএনপি নেতা মামুন তাকে কত টাকা দিয়েছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে পরিবানু বলেন, ’পরিমাণটা আমি বলতে চাই না। আদালত থেকে মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ার দিন আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’ অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মামুন টাকা দেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিছু বলতে চাননি। তবে ওই থানার ওসি মাছুমা মুস্তারী শুক্রবার সকালে জানান, মামলাটির তদন্ত প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। হত্যা মামলা কোনোভাবেই আপসের সুযোগ নেই। দ্রুত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।








