চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্লু স্কাই গ্রুপ নামের কথিত একটি প্রতিষ্ঠান প্রতারণার মাধ্যমে শতাধিক মানুষের ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। নানা প্রলোভনে বিনিয়োগ করিয়ে এই টাকা আত্মসাৎ করে ইতোমধ্যে গা-ঢাকা দিয়েছেন চক্রের সদস্যরা। তবে এ ঘটনায় করা একটি মামলায় প্রতারকচক্রের পালের গোদা কথিত প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ছাকিবুল ইসলাম গ্রেফতার হয়েছেন। ইতোমধ্যে আরও দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। আরও অর্ধশত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাস তিনেক আগে থেকে পাবনা সদর উপজেলার রাধানগর-মাঠপাড়ার সামসুদ্দিন বাবুর ছেলে ছাকিবুল নিজেকে ব্লু স্কাই গ্রুপের সিইও পরিচয় দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিনিয়োগের নামে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেন। ১০ কোটি টাকা সংগ্রহের পর ছাকিবুল ও তার সহযোগীরা আত্মগোপন করেন। এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার জয়নগর-মীরাপাড়ার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম ২৩ জুন সদর মডেল থানায় মামলা করেন। পরদিন পাবনার নিজ বাড়ি থেকে ছাকিবুলকে গ্রেফতার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আদালতে তাকে হাজির করা হয়। ছাকিবুলের আইনজীবী তার জামিনের আবেদন করেন। রোববার শুনানির পর আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন। পাশাপাশি তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। ইতোমধ্যে পুলিশ তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
এদিকে একটি মামলার বাদী আশরাফুল ইসলাম এজাহারে উল্লেখ করেন, ছাকিবুল চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি রেস্তোরাঁয় তিন মাস আগে সেমিনারের আয়োজন করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ব্লু স্কাই গ্রুপে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের জন্য তিনি তাদের বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখান। তার আশ্বাসে বিশ্বাস করে তিনি (আশরাফুল) দেড় মাস আগে এক কোটি ৪৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। পরে ছাকিবুল অর্থ নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। ছাকিবুলের আইনজীবী মীর রাকিব আলম রিজন বলেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে কত টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। ব্লু স্কাই গ্রুপের ব্যবসার ধরন বা প্রতিষ্ঠানটির কোনো সরকারি নিবন্ধন রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি তথ্য দিতে পারেননি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, শনিবার রাতেও ছাকিবুলের বিরুদ্ধে দুটি এজাহার নিয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় আসেন। তাদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ, তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে শতাধিক ব্যক্তি থানায় যোগাযোগ করেছেন। অন্তত অর্ধশত মামলা দায়ের হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।








