জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, “বিরোধী দল সমালোচনা করলেও সেই সমালোচনায় আগের মতো শক্তি নেই। বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা হচ্ছে, কথার মধ্যে শক্তি নেই, বিরোধিতার মধ্যেও শক্তি নেই। এটা দেশবাসীও বুঝছে, আমরাও সংসদে বুঝছি।”

রবিবার (২৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ব্যাংকের সংখ্যা কমানো, অর্থপাচার রোধে আর্থিক ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার এবং উচ্চ মূল্যমানের নোট প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন ব্যারিস্টার খোকন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রশংসা করে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।” 

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

বাজেট প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “ঘাটতি বাজেট নতুন কিছু নয়, এটি আগামী এক বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, যুবকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মতো ইতিবাচক দিক বাজেটে রয়েছে।”

তিনি বলেন, “সরকার একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। এ অবস্থায় অর্থমন্ত্রী ও সরকারের প্রচেষ্টার কারণে বিরোধীদের তেমন জোরালো সমালোচনা দেখা যাচ্ছে না।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য কর্মসংস্থানকে সবচেয়ে বড় শর্ত হিসেবে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার খোকন বলেন, “কোটি কোটি যুবক বেকার রেখে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি সম্ভব নয়। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।”

অর্থপাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কার্যকর নজির নেই।” 

তার মতে, মানুষ যেখানে অর্থ নিরাপদ মনে করে, সেখানেই অর্থ রাখে। তাই, শুধু আইন করলেই হবে না, এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে মানুষ দেশে অর্থ রাখতে আস্থা পায়।”

ব্যাংক খাত নিয়ে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, “বাংলাদেশে এত ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। এমপি হলেই ব্যাংক, নেতা হলেই লিজিং কোম্পানি, এ সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকের সংখ্যা কমাতে হবে। জনগণের টাকা দিয়ে বারবার ব্যাংক বাঁচানো ঠিক নয়।”