বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন তৈরি পোশাকশিল্পের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) নেতারা। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডের বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে জামায়াতে ইসলামীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়। বৈঠকে তৈরি পোশাকশিল্পের বর্তমান উৎপাদন ও রপ্তানি পরিস্থিতি, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণজনিত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।
বিজিএমইএ নেতারা জানান, দেশের প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও ৩ হাজার উদ্যোক্তা সরাসরি এ খাতের সঙ্গে জড়িত। বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। উদ্যোক্তারা পোশাক রপ্তানি বর্তমান পর্যায় থেকে ভবিষ্যতে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনার কথাও বিরোধীদলীয় নেতার সামনে তুলে ধরেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার কাছে পোশাকশিল্পের চলমান নানা সংকট তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে বিদ্যমান সমস্যার বিষয়ে শুনেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন। সংকট উত্তরণে বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন উদ্যোক্তারা।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন বিজিএমইএর নেতৃবৃন্দকে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, বর্তমানে এ খাতের সমস্যাগুলো কী, সম্ভাবনাগুলো কোথায় এবং এসব সমস্যা সমাধানে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন—এসব বিষয়ে তাদের কাছ থেকে ধারণা নেওয়াই ছিল আজকের মতবিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও জানান, দেশের স্বার্থে ট্রেজারি বেঞ্চ (সরকার) ও বিরোধী দলের মধ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা থাকা উচিত। বিশেষ করে জ্বালানিসংকট সমাধানে প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সরকারকে কারিগরি ও নীতিগত সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। পাশাপাশি সংসদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রাজপথে জনগণের ন্যায্য দাবির পক্ষে থাকার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসাইন, নূরুল ইসলাম বুলবুল, শফিকুল ইসলাম মাসুদ, রেজাউল করিম এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমান।
বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলে সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সেলিম রহমান, সহসভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান, বিদিয়া অমৃত খান, শেহাব উদ্দুজা চৌধুরী, মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী এবং স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকেরা।





