ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। রাজধানীর আদাবরে বিএনপি নেতা আবুল বাশার হত্যা মামলায় গ্রেফতার ছয় আসামির মধ্যে পাঁচজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে আসামিদের হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান।
এজাহারভুক্ত আসামি নিরব, রিপন, সুমন মিয়া, মজনু মিয়া ও শহীদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে আদালত তা রেকর্ড করেন। অন্য আসামি মিজানের ক্ষেত্রে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হলে আদালত সেটিও মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দি শেষে পাঁচ আসামিকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ ঘিরে বিরোধের জেরে হত্যা, সন্দেহভাজন দুজন কারাগারে
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, শনিবার জামালপুর সদর উপজেলার কাজীর আখ এলাকা থেকে সুমন মিয়াকে এবং ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বরাইল এলাকা থেকে শহীদকে গ্রেফতার করে র্যাব। একই সময়ে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সাহেবনগর এলাকা থেকে নিরব, রিপন, মজনু ও মিজানকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে শুক্রবার একই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে সোয়েব হোসেন ও মো. কবিরকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৯ জুন রাতে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয় উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উচ্চস্বরে বাঁশি বাজানো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে নিরবের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে হাবিবুর রহমানের ভাগনে সাদ্দাম হোসেন মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিলেও পরদিন তার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়।
আরও পড়ুন
ব্রাজিলের খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতাকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ৩
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সেই বিরোধের জের ধরেই পরবর্তী সময়ে আদাবর এলাকায় বিএনপি নেতা আবুল বাশারের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে একে একে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করছে।
এমডিএএ/এমকেআর








