বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত নতুন নিয়ম ছিল প্রতি অর্ধে দুটি করে তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক। দর্শকদের ব্যাপক সমালোচনা ও স্টেডিয়ামে দুয়ো সত্ত্বেও নিয়মটি আপাতত বহাল রেখেছে ফিফা। তবে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর এ নিয়মের কার্যকারিতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্বকাপের ১০২টি ম্যাচ বিশ্লেষণ করে ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ (টিএসজি) তাদের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করলেও হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে কোনো চূড়ান্ত মূল্যায়ন দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন টিএসজির প্রধান ও সাবেক আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার।

ওয়েঙ্গার বলেন, ‘অনেকেই এই বিরতি পছন্দ করেননি। তবে আমার মনে হয় না, এটি প্রতিযোগিতার ফলাফল বদলে দিয়েছে। আমরা দর্শকদের জন্যই কাজ করি। টুর্নামেন্ট শেষ হলে পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিছু ম্যাচে এই বিরতি খুবই প্রয়োজনীয় ছিল। বিশেষ করে আবহাওয়ার কারণে। তবে এখনো আমরা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি।’

অন্যদিকে সময়ক্ষেপণ কমাতে চালু হওয়া নতুন নিয়মগুলোকে সফল বলে দাবি করেছে ফিফা। গোলকিক ও থ্রো-ইন নিতে পাঁচ সেকেন্ড, বদলি সম্পন্ন করতে ১০ সেকেন্ড এবং মাঠে চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ এক মিনিট সময় বেঁধে দেওয়ার ফলে খেলার গতি বেড়েছে বলে জানিয়েছে টিএসজি।

ওয়েঙ্গারের ভাষায়, ‘এই নিয়মগুলোর মূল্যায়ন ইতিবাচক। খেলোয়াড়দের সময়ক্ষেপণ কমেছে এবং দর্শকদের অভিজ্ঞতাও উন্নত হয়েছে।’

ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ২৫ শতাংশ গোলকিক নিতে ৩০ সেকেন্ডের বেশি সময় লাগলেও এবার সেই হার নেমে এসেছে ১২ শতাংশে। প্রতি ম্যাচে চিকিৎসাজনিত বিরতিও ২.৩ থেকে কমে ১.৬-এ নেমেছে।

টিএসজির বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, এবার দলগুলো আগের তুলনায় বেশি লো-ব্লক ডিফেন্স ব্যবহার করেছে এবং বল দখলের চেয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বেশি জোর দিয়েছে। স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সকে এই কৌশলের সফল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকেরা।

টিএসজির পারফরম্যান্স ইনসাইটস প্রধান টম গার্ডনার বলেন, ‘কাতারের তুলনায় এবার দলগুলো আরও বেশি সময় নিজেদের বক্সের কাছে রক্ষণাত্মক অবস্থানে থেকেছে এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাককে অগ্রাধিকার দিয়েছে।’

ব্রাজিলের সাবেক মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভাও জানান, দ্রুত উইং বদল ও ফুল-ব্যাকদের গতিকে কাজে লাগিয়ে স্পেন, আর্জেন্টিনা ও বিশেষ করে ফ্রান্স প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে সফল হয়েছে।

এ ছাড়া দূরপাল্লার শট থেকে গোলের হার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৬ শতাংশে পৌঁছালেও সেট-পিস থেকে নতুন কোনো কৌশল দেখা না যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সাবেক জার্মান তারকা ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান। তার ভাষায়, ‘ফ্রি-কিক বা কর্নার থেকে নতুন কিছু দেখা যায়নি। এই দিকটি কিছুটা হতাশাজনক ছিল।’

টিটিটি/আইএন