যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় আগামী রোববার নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত থাকবেন। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এক সংবাদ সম্মেলনে লেভিট বলেন, ‘আমরা রোববারের ফাইনাল ম্যাচের অপেক্ষায় রয়েছি এবং আমি জানি প্রেসিডেন্টও সেখানে উপস্থিত থাকার জন্য মুখিয়ে আছেন।’ তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের এই উপস্থিতির মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বেশি দর্শকপ্রিয়, সবচেয়ে নিরাপদ এবং সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপের’ সমাপ্তি ঘটবে।

ফাইনালে ট্রাম্পের কোনো প্রিয় দল রয়েছে কি না, সে বিষয়ে লেভিট বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে তিনি সাংবাদিকদের এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, এ বিষয়ে তিনি আপনাদের জন্য মজার একটি উত্তর দেবেন।’ এ ছাড়া, লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটির ট্রাম্প টাওয়ারে অনুষ্ঠিত ফিফার একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন।

মাঠে সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে শেষ ষোলোর লড়াইয়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য মন্তব্য ও ফিফার কাছে পুনর্বিবেচনার জোর দাবি ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলে ট্রাম্প এটিকে ‘একটি বড় অবিচারের সংশোধন’ বলে আখ্যা দেন।

অবশ্য ফরোয়ার্ড বালোগান নিজেই স্বীকার করেছেন, পুরো বিষয়টি তাঁকে বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঠে ফিরলেও বালোগান তাঁর দলকে জেতাতে পারেননি; বেলজিয়ামের কাছে ৪–১ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেছেন যে, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে ট্রাম্পের ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্লু স্পোর্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, ‘হ্যাঁ, আশা করছি আমরা একসঙ্গেই বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেব। শুরু থেকেই আমাদের এমন পরিকল্পনা ছিল। সাধারণত যে দেশে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়, সেই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ফিফা সভাপতির সঙ্গে যৌথভাবে ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে থাকেন।’

এর আগে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালেও ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রফি তুলে দিতে দেখা গিয়েছিল ট্রাম্পকে। এবার বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চেও সেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কার হাতে ট্রফি তুলে দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?