নরওয়ের হয়ে বিশ্বকাপে খেলা ছিল তার স্বপ্ন। কিন্তু রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারিয়ে নরওয়েকে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলবেন, এমন কিছু আর্লিং হলান্ডের কল্পনাতেও ছিল না। সেটাই এখন বাস্তব। তার জোড়া গোলেই গত পরশু রাতে ব্রাজিল-বধের মহাকাব্য লিখেছে নরওয়ে, যা বিশ্বাস হচ্ছে না হলান্ডের। অভিষেক বিশ্বকাপে সাত গোল করে ফেলা এই ম্যানসিটি তারকা বলেছেন, ‘সত্যিই আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। এমন কিছুর স্বপ্নও কখনো দেখিনি। আশা করিনি যে, বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে হারাব আমরা। হয়তো এই দিনটিই নরওয়ের ফুটবল ইতিহাস বদলে দেবে।’
সুযোগ পেলে তা কাজে লাগানোই হলান্ডের কাজ। বক্স স্ট্রাইকার তিনি। নিজের কাজ করে দেখিয়েছেন। হলান্ড বলেন, ‘যদি এক-দুটি সুযোগ পাই, তার মধ্যেই গোল করে ফেলি। আমি জানি না কীভাবে করি। কিন্তু হয়ে যায়।’ হলান্ড ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথম গোলটি করেছেন হেডে। ছয় ফুট পাঁচ ইঞ্চি উচ্চতার হওয়ায় বাড়তি সুবিধা পান। ব্রাজি?লের দুই ডিফেন্ডারের মাঝে লাফিয়ে হেড করতে অসুবিধা হয়নি। দ্বিতীয় গোলটি ব্রাজিলকে আরও লজ্জায় ফেলার মতো। অন্তত তিনজন ডিফেন্ডার দাঁড়িয়েছিলেন সামনে। তাদের পিছনে ছিলেন ব্রাজিলের গোলকিপার। স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বাঁ পায়ে মাটিঘেঁষা শট নেন তিনি। বল জালে। বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি তার মধ্যে। তবে জয়ের পর সমর্থক এবং সতীর্থদের সঙ্গে ‘ভাইকিং রো’ করেছেন। হলান্ড বুঝিয়েছেন, তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া।
এবারের বিশ্বকাপ হলান্ডের কাছে আলাদা। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে নরওয়ে। এই প্রথম নকআউটে উঠেছে। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে আট ম্যাচে ১৬ গোল করেছিলেন হলান্ড। সেই ফর্ম ধরে রেখেছেন। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে হলান্ড জানিয়েছিলেন, ‘প্রতিবার অপেক্ষা করেছি। এত বছর ধরে অপেক্ষা করেছি। কিছুতেই হচ্ছিল না। এবার সুযোগ পেয়েছি। তা কাজে লাগাতে হবে।’ হলান্ড সেই লড়াইয়ে পাশে পেয়েছে মার্টিন ওডেগার্ডের মতো প্রিমিয়ার লিগজয়ী অধিনায়ককে। একসঙ্গে এগিয়ে চলেছেন তারা। বিশ্বকাপে নামার আগেই ক্লাব ফুটবলে তারকা হয়ে উঠেছেন হলান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির বড় ভরসা তিনি। ২০২৩ সালে শুধু প্রিমিয়ার লিগে ৩৬ গোল করে এক মৌসুমে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড গড়েছেন। জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। সেই হলান্ড এবার ডানা মেলেছেন বিশ্বকাপে।








